মুসলমানদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহার টানা ছুটিতে পটুয়াখালীর পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় ঢল নামতে পারে লাখো পর্যটকের। ঈদের পরবর্তী এক সপ্তাহে সমুদ্রসৈকত কুয়াকাটায় প্রায় ৩ থেকে ৪ লাখ পর্যটকের আগমন ঘটবে বলে আশা করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। বিপুল সংখ্যক এই পর্যটকদের বরণ করে নিতে এবং সর্বোচ্চ সেবা দিতে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন তারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘ ছুটিকে কেন্দ্র করে কুয়াকাটার হোটেল–মোটেল, রেস্তোরাঁ ও বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রগুলো ধুয়ে–মুছে পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে। সৈকতের কিউস্ক (ছাতা–বেঞ্চ) এবং ওয়াটার বাইকগুলোতে লেগেছে নতুনত্বের ছোঁয়া। পর্যটকদের কেনাকাটার পছন্দের শুঁটকি মার্কেট, ঝিনুক মার্কেট ও রাখাইন পল্লীর দোকানগুলোও সাজানো হচ্ছে নতুন পণ্যের সমাহারে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে কুয়াকাটার প্রথম শ্রেণির হোটেল–মোটেলগুলোর প্রায় ৫০ শতাংশ রুম আগাম বুকিং হয়ে গেছে।
কুয়াকাটার পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানান, বিগত কয়েক মাসের মন্দা কাটিয়ে এই ঈদের ছুটিতে ভালো ব্যবসার আশা করছেন তারা। পর্যটকদের বাড়তি চাহিদার কথা মাথায় রেখে সেবার মান বাড়ানোর পাশাপাশি সব ধরণের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, ‘এবার ঈদুল আজহার ছুটিতেও ৩ থেকে ৪ লাখ পর্যটকের আগমন ঘটবে বলে আমরা আশা করছি। বুকিংয়ের হার প্রতিনিয়ত বাড়ছে। পর্যটকরা যাতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন এবং স্বাচ্ছন্দ্যে ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে পারেন, সেজন্য আমরা ট্যুর অপারেটর ও হোটেল মালিকেরা সমন্বিতভাবে কাজ করছি।‘
এদিকে ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে আইন–শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান জানান, সৈকত ও এর আশপাশের দর্শনীয় স্থানগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে। সাদা পোশাকে নজরদারির পাশাপাশি পর্যটকদের যেকোনো জরুরি সহায়তায় ২৪ ঘণ্টা কন্ট্রোল রুম ও হেল্প ডেস্ক চালু থাকবে।