সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে বুধবার (২৭ মে) রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার বিপুলসংখ্যক মানুষ পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করছেন। দক্ষিণ চট্টগ্রামের ৬০টি গ্রাম, পটুয়াখালীর ৩৫টি গ্রাম এবং দিনাজপুর, মৌলভীবাজার, বগুড়া ও ঝিনাইদহের বিভিন্ন এলাকায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব এলাকার মুসল্লিরা নামাজ শেষে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি দিচ্ছেন।
পটুয়াখালী:
আজ সবচেয়ে বড় পরিসরে উৎসবের আমেজ দেখা গেছে পটুয়াখালীতে। জেলার ৩৫টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আজ পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপন করছেন। সকাল ৮টায় সদর উপজেলার বদরপুর দরবার শরীফ জামে মসজিদে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় বৃহত্তম জামাতটি অনুষ্ঠিত হয় কলাপাড়ার ধানখালী ইউনিয়নের উত্তর নিশানবাড়িয়া জাহাগিরিয়া শাহসুফি মমতাজিয়া দরবার শরীফের মসজিদে। এছাড়া জেলার কলাপাড়া, রাঙ্গাবালি, গলাচিপা, দুমকি এবং বাউফল উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয়ভাবে এরা চট্টগ্রামের এলাহাবাদ সুফিয়া ও চানটুপির অনুসারী হিসেবে পরিচিত এবং প্রায় ১৫০ বছর ধরে তারা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে এভাবে আগাম ঈদ পালন করে আসছেন।
চট্টগ্রাম:
দক্ষিণ চট্টগ্রামের চন্দনাইশসহ প্রায় ৬০ গ্রামে আজ ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে। চন্দনাইশের জাঁহাগিরিয়া শাহ সুফি মমতাজিয়া দরবার ও সাতকানিয়ার মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারীরা আজ পশু কোরবানির মাধ্যমে ঈদ উদযাপন করছেন। সকাল ৮টায় মমতাজিয়া দরবারে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ইমামতি করেন পীরজাদা সৈয়্যদ মাওলানা মোহাম্মদ আলী।
জানা গেছে, সুফি সাধক সৈয়্যদ মাওলানা মোখলেসুর রহমান জাঁহাগিরী (রহ.) প্রায় ২০০ বছরেরও অধিক সময় আগে বিশ্বের কোথাও চাঁদ দেখা সাপেক্ষে রোজা ও ঈদসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের যে নিয়ম প্রবর্তন করেছিলেন, তার ভক্তরা এখনো সেই ধারাবাহিকতা অনুসরণ করে আসছেন।
দিনাজপুর:
দিনাজপুরের বেশ কয়েকটি উপজেলাতেও আজ সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে। সকাল ৮টায় দিনাজপুর শহরের চারুবাবুর মোড়ের পার্টি সেন্টারে ঈদের প্রধান নামাজ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও অংশ নেন। দিনাজপুর শহর ছাড়াও চিরিরবন্দর, বিরল, কাহারোল ও বিরামপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় কয়েক শ পরিবার আজ ঈদ পালন করছে। উল্লেখ্য, ২০০৭ সাল থেকে এই জেলায় সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আগাম ঈদ উদযাপনের এই রীতি শুরু হয়।
ঢাকা:
রাজধানী ঢাকার পান্থপথের সামুরাই কনভেনশন সেন্টারে ‘মুসলিম উম্মাহ বাংলাদেশ‘-এর আয়োজনে সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে কয়েকশত মুসল্লি অংশ নেন।
এছাড়া মৌলভীবাজার শহরের সার্কিট হাউস এলাকায় শতাধিক নারী–পুরুষের অংশগ্রহণে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। অন্যদিকে বগুড়ার গাবতলী এবং ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুর তিনটি স্থানে আজ ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তবে দেশের বিভিন্ন স্থানে সকাল থেকে বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টির কারণে মাঠের পরিবর্তে মসজিদ বা ঘরের ভেতরে ঈদের নামাজ আদায় করতে হয়েছে মুসল্লিদের। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অনেক জায়গায় মুসল্লিদের উপস্থিতি অন্যবারের চেয়ে কিছুটা কম ছিল। নামাজ শেষে প্রতিটি জামাতেই দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।