তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের শ্রমিক এবং তাদের শিশুদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি জাতীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংলাপে সরকারি প্রতিনিধি, শ্রম অধিকার কর্মী, শিল্পখাত ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিক ও তাদের সন্তানদের জন্য একটি নিরাপদ, মানবিক ও সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল ১০টায় রাজধানীর পুরানা পল্টনের একটি হোটেলে ‘ন্যাশনাল ডায়ালগ অন দ্য রাইটস অ্যান্ড ওয়েল–বিয়িং অব আরএমজি ওয়ার্কার্স অ্যান্ড দেয়ার চিলড্রেন’ শীর্ষক এই সংলাপের আয়োজন করা হয়। ‘স্মাইল’ প্রকল্পের আওতায় এডুকো বাংলাদেশ ও সবুজের অভিযান ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে এবং ম্যানগোর অর্থায়নে এই অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়।
অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্যে এডুকো বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদুল হামিদ বলেন, ‘শ্রমিক ও তাদের সন্তানদের কল্যাণে বিনিয়োগ শুধু নৈতিক দায়িত্ব নয়, বরং টেকসই উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।’ এরপর স্মাইল প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রম ও মূল উদ্দেশ্য তুলে ধরেন এডুকোর প্রজেক্ট ম্যানেজার রাফেজা আক্তার।
সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক। তিনি শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার, শিল্পখাত এবং উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আজ এই অনুষ্ঠানে সব ধরনের প্রতিনিধি উপস্থিত হয়েছেন। তাই এখন আমাদের কাজ হলো এই ভালো কাজগুলো সবার মাঝে ছড়িয়ে দেয়া।’
প্রকল্পের প্রভাব ও অর্জন নিয়ে হিউম্যানিটি অ্যান্ড হোপ অ্যান্ড রিসার্চ অ্যান্ড কনসালটেন্সির সিইও ইরফাত আরা ইভা বক্তব্য দেন। তিনি শ্রমিকদের মানসিক সুস্থতা, শিশুর যত্ন, কর্মপরিবেশের উন্নয়ন এবং শিশুদের শিক্ষার ক্ষেত্রে স্মাইল প্রকল্পের মাধ্যমে আসা ইতিবাচক পরিবর্তনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে প্রকল্পের সাফল্যের গল্প নিয়ে তৈরি ‘ভয়েস অব চেঞ্জ’ এবং ‘এডুকো বার্ষিক প্রতিবেদন’–এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
পরে উন্মুক্ত আলোচনা ও সংলাপ পর্বে বিশেষজ্ঞরা তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিক ও তাদের শিশুদের অধিকার, মানসিক সুস্থতা, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, ডে–কেয়ার সুবিধা এবং টেকসই কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থা নিয়ে নিজেদের মতামত প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিকেএমইএর পরিচালক ইমরান কাদের তুর্জো, জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ও এনসিসিডব্লিউই সদস্য নাঈমুল আহসান জুয়েল এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন দফতরের জয়েন্ট ইন্সপেক্টর মো. মাহফুজুর রহমান ভূঁইয়া।
বর্তমানে ১৯টি তৈরি পোশাক কারখানায় স্মাইল প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই প্রকল্পের আওতায় ডে–কেয়ার সেন্টার (ডিসিসি) এবং কমিউনিটি বেইজড লার্নিং সেন্টার (সিবিএলসি) স্থাপন করা হয়েছে, যা শ্রমিক পরিবার ও শিশুদের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই উদ্যোগের ফলে শ্রমিকদের সন্তুষ্টি বৃদ্ধি, অধিকার সচেতনতা, মানসিক চাপ হ্রাস এবং শিশুদের শিক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
উল্লেখ্য, স্পেনভিত্তিক আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা এডুকো গত ৩০ বছর ধরে বিশ্বের ১৮টি দেশে শিশুদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে। বাংলাদেশে ১৯৯৯ সাল থেকে সংস্থাটি শিশুদের শিক্ষা, সুরক্ষা ও সার্বিক উন্নয়নে সরকারের সহযোগী হিসেবে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।