নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে ফলক উন্মোচন করে উন্নয়ন কাজের শুভ সূচনা করেন ডেপুটি স্পিকার। উদ্বোধনের সময় কোমলমতি শিশুদের সাথে নিয়ে ফলকের পর্দা উন্মোচন করে ব্যতিক্রমী ও আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি করেন তিনি।
এসময় কাজের মান নিয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না এবং সরকারি অর্থ নয়ছয় করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা–১ (দুর্গাপুর–কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
শুক্রবার (১৫ মে) দুপুরে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় চকলেংঙ্গুড়া এলাকায় ‘বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি’র আওতায় গ্রামীণ মাটির রাস্তাসমূহ টেকসইকরণের লক্ষ্যে ‘হেরিং বোন বন্ড’ (এইচবিবি) করণ প্রকল্পের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের প্রকল্পের আওতায় কুল্লাগড়া ইউনিয়নের কাকড়াকান্দা এলাকায় পাঁচশো মিটার ও চকলেংঙ্গুড়া মধ্যম বাগান এলাকা হতে বেসরকারি প্রাইমারি স্কুল পর্যন্ত এক হাজার মিটার রাস্তা এবং গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়নের শংকরপুর মধ্যপাড়া জামে মসজিদ সংলগ্ন এলজিইডি পাকা রাস্তা হতে আ. হালিমের জমি পর্যন্ত ও ঈশ্বরখলা হক মেকারের বাড়ি এলজিইডি রাস্তা হতে আব্দুল হারিজের বাড়ির পাশে মসজিদ পর্যন্ত রাস্তাগুলোর এইচবিবি করণ কাজ শুরু হয়েছে। পুরো প্রকল্পের চুক্তিমূল্য ধরা হয়েছে এক কোটি ৬১ লক্ষ ৯৫ হাজার ৩৯৯ টাকা।
প্রকল্পের তদারকি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে উপস্থিত ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, “আমি সৎ মানুষ, মানুষের বকা শুনতে চাই না। যদি সুন্দরভাবে কাজ কন্টিনিউ করতে পারেন তবেই করুন, নাহলে সারেন্ডার করুন। জনগণের টাকা নিয়ে আধা–খেঁচড়া কাজ করলে বা বালু–মাটির কারচুপি করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কাজের মান খারাপ হলে স্থানীয়রা যেন ছবি তুলে সরাসরি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে (পিআইও) জানান।
উন্নয়ন কাজে স্থানীয় কোনো বাধা বা চাঁদাবাজির সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদি কেউ কাজের দোহাই দিয়ে টাকা দাবি করে, তবে তাৎক্ষণিক উপস্থিত পুলিশ প্রশাসনকে জানানোর নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, “আমরা সুন্দর রাস্তা চাই, কাজের সিডিউল অনুযায়ী প্রতিটি ইট ও বালুর হিসাব যেন সঠিক থাকে।”
উদ্বোধন শেষে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও শিশুদের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। ডেপুটি স্পিকার নিজেই শিশুদের মিষ্টিমুখ করান এবং তাদের পড়ালেখার খোঁজখবর নেন। এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ সাদাত, থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ফয়সাল চৌধুরী