অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) সংকটে ৩ সপ্তাহেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর অবশেষে উৎপাদনে ফিরেছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার কেন্দ্র ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)।
শুক্রবার (৮ মে) সকাল ৮টায় শোধনাগারটিতে পূর্ণদমে পরিশোধন প্রক্রিয়া শুরু হয়।
ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী শরীফ হাসনাত এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘সকাল ৮টায় আমাদের প্ল্যান্ট চালু হয়েছে। তবে প্রসেস হতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে। এরপর উৎপাদন শুরু হবে।’
এর আগে, গত বুধবার (৬ মে) দুপুর ১২টার পর সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন ক্রুড নিয়ে আসা ট্যাংকার জাহাজ ‘এমটি নিনেমিয়া’ কুতুবদিয়া নোঙর করে। পরে রাত ১০টায় জাহাজটি থেকে লাইটারিং শুরু হয়।
যার ফলে অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) সরবরাহ শুরু হওয়ায় শোধনাগারটি আবার সচল করা সম্ভব হয়েছে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে ইস্টার্ন রিফাইনারির দুটি ইউনিটে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। এক লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল পরিশোধনের মাধ্যমে প্রায় ২৬ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল, ২৪ হাজার মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল, ১৬ হাজার মেট্রিক টন পেট্রোল, ২১ হাজার মেট্রিক টন কেরোসিন এবং ৮ হাজার মেট্রিক টন অকটেন উৎপাদন করা সম্ভব।
এছাড়া রিফাইনারিতে প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন অপরিশোধিত জ্বালানি এবং দেড় লাখ মেট্রিক টনের বেশি পরিশোধিত তেল মজুত রাখার সক্ষমতা রয়েছে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) তথ্য অনুযায়ী, অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) সরবরাহ না থাকায় ১৪ এপ্রিল থেকে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছিল। সর্বশেষ তেলের চালান এসেছিল ১৮ ফেব্রুয়ারি।
এসএ