দর্শকপ্রিয় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আরটিভির মফস্বল সাংবাদিকদের অনুষ্ঠানে ভিন্নধর্মী উপস্থাপনার মাধ্যমে আলোচনায় এসেছেন প্রতিষ্ঠানটির অনলাইন বিভাগের ইনচার্জ আবু আজাদ। পেশাগত আয়োজনে বিষয়বস্তুর পাশাপাশি দেশের মহাবিপন্ন বন্যপ্রাণী নিয়ে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়াতেই তিনি প্রশংসিত হয়েছেন।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে আরটিভি স্টুডিওতে অনুষ্ঠিত ‘আরটিভি প্রতিনিধি সম্মেলন–২০২৬’–এ আবু আজাদ সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা, সংবাদ উপস্থাপন ও কনটেন্টের মানোন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেন।
তবে তার উপস্থাপনায় একটি ভিন্ন মাত্রা যোগ করে বাঘ, হাতি, উল্লুক, ঘড়িয়াল, ভালুক, শকুন, ডলফিন, বনরুই ও সুন্দরী হাঁসসহ দেশের বিভিন্ন মহাবিপন্ন বন্যপ্রাণীর ছবি। যদিও এগুলো সরাসরি আলোচ্য বিষয়ের অংশ ছিল না, তবুও তিনি এই উপস্থাপনার মাধ্যমে সহকর্মী সাংবাদিকদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছে দেন– প্রকৃতির এই প্রাণীগুলো মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে এবং তাদের সংরক্ষণ জরুরি।
এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নজরে আসে বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক আব্দুল্লাহ–আস–সাদিকের। পরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কোনো একক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়; এটি সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। এমন একটি প্ল্যাটফর্মে বন্যপ্রাণীর বিষয়টি উঠে আসা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ স্থানীয় সাংবাদিকরাই সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
বন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ–আস–সাদিক আরও উল্লেখ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ প্রমাণ করে সমাজের সব স্তরের মানুষ সম্পৃক্ত হলে মানুষ ও প্রকৃতির সহাবস্থান আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব।
এ বিষয়ে আবু আজাদ বলেন, সাংবাদিকতা কেবল তথ্য পরিবেশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি সচেতনতা তৈরির একটি শক্তিশালী মাধ্যম। সেই জায়গা থেকেই তার এই প্রয়াস।
তিনি জানান, তার উপস্থাপনা দেখে যদি অন্তত একজন সহকর্মীও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিষয়ে নতুনভাবে চিন্তা করেন বা কাজ করতে অনুপ্রাণিত হন, সেটিই বড় প্রাপ্তি।