শনিবার, এপ্রিল ২৫, ২০২৬
শনিবার, এপ্রিল ২৫, ২০২৬

দুর্বল নীতি হলে ঝুঁকিতে পড়বে ডিজিটাল অর্থনীতি, সাইবার বিল নিয়ে কঠোর সতর্কবার্তা

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক

বাংলাদেশের ডিজিটাল ভবিষ্যৎ নির্মাণ এবং টেলিকম, ডাটা ও সাইবার সিকিউরিটি বিল ২০২৬ নিয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের স্টেকহোল্ডার সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছেন—নীতিমালায় ভারসাম্যহীনতা, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ এবং ডাটা সুরক্ষায় দুর্বলতা থাকলে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি গুরুত্বর ঝুঁকির মুখে পড়বে।

বাংলাদেশ আইসিটি স্টেকহোল্ডারস অ্যালায়েন্স (BISA) আয়োজিত এ সংলাপ রাজধানীর বনানী ক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট ফয়সাল আলিমএর সভাপতিত্বে এবং উপদেষ্টা মোঃ শামীম আজাদএর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ আব্দুস সালাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি আবু আবদুল্লাহ এম. সালেহ, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সহকারী সম্পাদক এইচএম সাইফ আলী খান, বিসা এর ফাউন্ডার ও উপদেষ্টা প্রকৌশলী মো. জুয়েল। সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন BISA-এর উপদেষ্টা মোহাম্মদ সামিউল ইসলাম।

সংলাপে বক্তব্য রাখেন বিসার ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বাক্য (BACCO) এর পরিচালক সায়মা শওকত, ফেলেসিটি আই টি সি এর সিইও শরিফুল আলম, চালডাল এর জিয়া আশরাফ সহ প্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তারা। সংলাপে সরকারের নীতি নির্ধারক, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, প্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তা এবং শিল্প সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

সংলাপে বক্তারা জোর দিয়ে বলেন:ডাটা প্রাইভেসি নিশ্চিত না হলে ডিজিটাল বিনিয়োগ হুমকির মুখে পড়বে। অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ ও অস্পষ্ট নীতিমালা স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনকে বাধাগ্রস্ত করবে।নীতিমালা প্রণয়নে বাস্তবতা বিবেচনা না করলে তা কার্যকর হবে না।

প্রধান অতিথি ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, “ডিজিটাল খাতকে শক্তিশালী করতে হলে নীতিমালাকে হতে হবে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং বাস্তবসম্মত—অন্যথায় এটি উন্নয়নের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে।”

বিশেষ অতিথি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবে স্টেকহোল্ডারদের মতামত নীতি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

সংলাপ থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ উঠে আসে:

. ডাটা সুরক্ষা আইনকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে।

. টেলিকম ও সাইবার আইনে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

. নীতি প্রণয়নের আগে স্টেকহোল্ডারদের বাধ্যতামূলক পরামর্শ প্রক্রিয়া চালু করতে হবে।

. আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে ডাটা সুরক্ষা, সাইবার ঝুঁকি এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামোর জটিলতা নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রস্তাবিত বিলসমূহ ভবিষ্যৎ ডিজিটাল ইকোসিস্টেম নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা একমত হন যে, “সঠিক নীতি হলে বাংলাদেশ ডিজিটাল অর্থনীতিতে এগিয়ে যাবে, ভুল নীতি হলে পুরো ইকোসিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

তারা দ্রুত একটি অংশগ্রহণমূলক, বাস্তবভিত্তিক এবং ভারসাম্যপূর্ণ ডিজিটাল নীতি প্রণয়নের আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More