রাঙামাটি জেলায় ধর্মশিং চাকমা (৩৯) নামে এক ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ–প্রসীত) সদস্যকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন তাঁর দুই বোন।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকাল সোয়া ৬টার দিকে সদর উপজেলার কুতুকছড়ি ইউনিয়নের কুতুকছড়ি উপরপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাঙ্গামাটি পুলিশ সুপার মো. আব্দুর রকিব। তিনি বলেন, বিস্তারিত জানার জন্য কাজ চলছে। মরদেহ উদ্ধারে সেনাবাহিনী ও পুলিশ একটি যৌথ দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে।
ধর্মশিং চাকমা কুতুকছড়ি ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত ধনঞ্জয় চাকমার ছেলে। তিনি ইউপিডিএফ (প্রসীত) যুব সংগঠন গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটি সহসভাপতি ছিলেন।
আহত ২জন হলেন— ধর্মশিং চাকমা‘র দুই বোন ভাগ্যশোভা চাকমা (৩১) ও কৃপাসোনা চাকমা (৪৫)।
রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতাল আবাসিক চিকিৎসক সৈকত আকবর বলেন, ‘ভাগ্যশোভা চাকমা ও কৃপা সোনা চাকমা নামে দুই নারীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তাঁদের হাতে গুলি লেগেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
কুতুকছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কানন চাকমা বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে জেনেছি, ২০–৩০ জনের অস্ত্রধারী একটি দল ধর্মশিং–এর বাড়ির দিকে আসে। বিষয়টি টের পেয়ে তিনি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় দৌড় দিলে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। তখন তার দুই বোন তাকে বাঁচাতে গেলে তারাও গুলিবিদ্ধ হন।’
ইউপিডিএফ মুখপাত্র অঙ্গ মারমা জানান, ধর্মশিং সাংগঠনিক কাজে বিভিন্ন জায়গায় থাকতেন। বিজু উৎসব উপলক্ষে তিনি নিজ বাসায় এসেছিলেন। সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ভোরে তাকে গুলি করে হত্যা করেছে।
এদিকে, হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে জেএসএস।
জেএসএস রাঙামাটি জেলা শাখার সভাপতি গঙ্গা মানিক চাকমা বলেন, ‘ওই এলাকায় আমাদের কোনো কার্যক্রম নেই। ইউপিডিএফ আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে।’
উল্লেখ্য, এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রাঙ্গামাটি–খাগড়াছড়ি সড়কের নানিয়ারচর ও কুতুকছড়ির বিভিন্ন অংশে সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ করছে ইউপিডিএফ।
এসএন