পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দিদের জন্য বিশেষ খাবারের আয়োজন করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে বন্দিদের স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের ব্যবস্থাও করা হয়। বন্দিদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়ার এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্বজনরা।
শনিবার (২১ মার্চ) দুপুরে কারাগারে বন্দিদের জন্য পোলাও, মাংস ও সেমাইসহ নানা মুখরোচক খাবার বিতরণ করা হয়। অন্যদিকে সাক্ষাতে আসা স্বজনদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয় এবং তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় মিষ্টি, চিপস ও চকলেট। ঈদ উপলক্ষে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন কারাগারে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে।দীর্ঘদিন পর প্রিয়জনদের কাছে পেয়ে অনেক বন্দি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। স্বজনদের মাঝেও ছিল আনন্দ ও স্বস্তির ছাপ।
করিমগঞ্জ থেকে আসা সাদিকুল রহমান নিষাদ বলেন, আমরা সবাই কষ্ট নিয়ে এখানে আসি। কিন্তু এমন আয়োজন আমাদের অনেকটা স্বস্তি দিয়েছে। কারাগার সম্পর্কে যে অমানবিক ধারণা ছিল, এখানে এসে তার ভিন্ন চিত্র দেখলাম। আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করার সুন্দর ব্যবস্থা করেছে কর্তৃপক্ষ।
ইসমত আরা ইভা বলেন, আমাদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়েছে, মিষ্টি, চিপস, চকলেট দেওয়া হয়েছে। এমন আয়োজন আগে দেখিনি, সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি।
কিশোরগঞ্জ সদর থেকে আসা জুনায়েদ আহমেদ টিপু জানান, আজ জেল গেটে এসে আত্মীয়ের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারলাম, তাদের জন্য ভালো খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এজন্য কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই। এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকুক।
কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলার ফারহানা আক্তার বলেন, কারাগারের বন্দিরাও মানুষ—এই উপলব্ধি থেকে আমরা ঈদের আনন্দ তাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করছি। স্বজনরা যেন হাসিমুখে ফিরে যেতে পারেন এবং বন্দিরা যেন মানসিকভাবে স্বস্তি পায়, সেটিই আমাদের লক্ষ্য।
জেল সুপার দিদারুল আলম বলেন, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বন্দিদের জন্য বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করেছি। পাশাপাশি তাদের স্বজনদের ফুল দিয়ে বরণ করে মিষ্টি ও বিভিন্ন খাবার দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কারাগারকে একটি মানবিক ও সংশোধনমূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের প্রচেষ্টা চলছে।এতে বন্দিদের মানসিক প্রশান্তি বাড়ার পাশাপাশি তাদের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আমাদের ধারণা।
মশিউর রহমান/এজে/দীপ্ত সংবাদ