কৃষি জমির মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দু‘গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় হোনা মিয়া (৩৭) নামে এক যুবক নিহত ও ২ যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন।
শনিবার (১৫ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার কন্ট্রাক্টর মসজিদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত হোনা মিয়া উপজেলার পূর্ব শিলুয়া গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে। তিনি যুবদল কর্মী বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, স্থানীয় সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনুর কড়া নির্দেশ উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন যাবৎ কৃষি জমির মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে একটি চক্র। প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের কড়া পাহারায়ও তাদেরকে ঠেকানো যাচ্ছিলো না। গত কয়েকদিন যাবৎ ছাগলনাইয়া উপজেলার পাঠাননগর ইউনিয়নের কন্ট্রাক্টর মসজিদ নামক স্থানে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে বিএনপির সমর্থকদের দুটি গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা চলে আসছিল। শনিবার দিবাগত রাতে ওই উত্তেজনা সংঘর্ষে রূপ নেয়। রাত ৩ টার দিকে সংঘর্ষে গুরুতর আহত ৩ জনকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক হোনা মিয়া নামের একজনকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকী দুইজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা হচ্ছেন– পাঠাননগর ইউনিয়নের পূর্ব শিলুয়া গ্রামের জানে আলমের ছেলে আলা উদ্দিন সুজন (৩০) ও একই গ্রামের নূর আলম (৪০)।
স্থানীয় কামাল উদ্দিন জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু জমি মাটি কাটার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি ও নিজে উপস্থিত থেকে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আসছিলেন। কিন্তু বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নামধারী কিছু ব্যক্তি প্রশাসনকে ম্যানেজ করে মাটি কেটে আসছিল। শনিবার রাতে সংঘর্ষে জড়িতদের প্রায় সবাই বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া দরকার।
এ ব্যাপারে জানতে ছাগলনাইয়া উপজেলা বিএনপির আহবায়ক নুর আহাম্মদ মজুমদারের মুঠোফোনে বারবার কল দিলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
ছাগলনাইয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম জানান, পুর্ব শিলুয়া গ্রামে মাটিকাটা নিয়ে গভীর রাতে দুটি পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। ঘটনায় ১ যুবক নিহত ও ২ যুবককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ জনকে আটক করা হয়েছে।
আবদুল্লাহ মামুন