আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে বাংলাদেশে ব্যাপক কোনো লোডশেডিং হওয়ার আশঙ্কা নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান। তিনি জানিয়েছেন, রমজানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
লোডশেডিং নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া উদ্বেগকে অতিরঞ্জিত উল্লেখ করে ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়ে যেসব দুশ্চিন্তা করা হচ্ছে তা কিছুটা বাড়িয়ে বলা হচ্ছে। অতীতে যেসব ব্যবস্থার মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখা হয়েছিল, এ বছরও সেই ধারা অব্যাহত থাকবে।‘
তিনি আরও বলেন, ‘রমজান মাসকে লোডশেডিংমুক্ত রাখার লক্ষ্যে কাজ চলছে। বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের বকেয়া বিল পরিশোধের জন্য অর্থ বিভাগ প্রয়োজনীয় তহবিল ছাড় করবে।‘
উল্লেখ্য, গতকালই বাংলাদেশ ইন্ডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন (বিআইপিপিএ) এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছিল যে, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) কাছে তাদের পাওনা প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা বকেয়া দ্রুত পরিশোধ করা না হলে দেশে বিদ্যুৎ সংকটের সৃষ্টি হতে পারে।
বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান চিত্র তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, ‘বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যখন দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল, সেই সময়ের তুলনায় দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত এখন অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছে। তবে বড় প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে সাধারণত দুই থেকে তিন বছর সময় লাগে।‘
এ সময় দেশে আরও একটি ফ্লোটিং স্টোরেজ রিগ্যাসফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) বা ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের জরুরি প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি মেয়াদ সংক্রান্ত অনিশ্চয়তার কারণে গ্যাস অনুসন্ধান ও অফশোর বিডিংয়ের (সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধান) কিছু প্রচেষ্টা আশানুরূপ সফল হয়নি বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ফাওজুল কবির খান তার মেয়াদের উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইতিমধ্যে বিতর্কিত ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন‘ বাতিল করেছে।