নিজে দিনাজপুরের নাতি হিসেবে পরিচয় দিয়ে এলাকাবাসীর কাছে ধানের শীষে ভোট চেয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শনিবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় দিনাজপুরের বিরামপুর সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত বিশাল জনসভায় নানির জেলা দিনাজপুরবাসীর কাছে আবদার জানান বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, ‘আমি দিনাজপুরের নাতি। বহু বছর পর নানি বাড়ি এসেছি। নানি বাড়িতে আসলাম, আপনারা কিছু তো খাওয়ালেন। তাহলে একটা জিনিস দিতে হবে আপনাদের। আমার বিএনপির প্রার্থী ধানের শীষে ভোট দিতে হবে।’
তারেক রহমান বলেন, দিনাজপুরকে সারাদেশ চেনে কৃষি প্রধান এলাকা হিসেবে। এই এলাকার বিখ্যাত লিচুকে সবাই চেনে। আমরা এই কৃষি প্রধান অঞ্চলকে কৃষির সাথে সম্পর্কিত শিল্প হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এই এলাকার বিখ্যাত লিচু প্রক্রিয়াজাত করার মাধ্যমে বিদেশে রপ্তানি করতে চাই। লিচু সংরক্ষণের জন্য হিমাগার তৈরি করা হবে। যাতে পরে লিচু বিদেশে রপ্তানি করতে পারি। দিনাজপুরে উৎপাদিত আম প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল কোম্পানিকে দিনাজপুরে আনা হবে।
তিনি আরো বলেন, যেই বাংলাদেশে আমার ভাই রাস্তায় নিরাপদে থাকতে পারবে, নিরাপদে চাকরি করতে পারবে, নিরাপদে বসবাস করতে পারবে, নিরাপদে নিশ্চিন্তে রাতে ঘরে ঘুমাতে পারবে, যেই বাংলাদেশের মুসলমান, হিন্দু, আদিবাসী, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান হই— আমাদের সকলকে বিচার করা হবে আমাদের যোগ্যতা এবং মেধার ভিত্তিতে। আমাদের পরিচয়, আমাদের ধর্ম নয়। আমাদের পরিচয় হবে মেধা দিয়ে, আমাদের পরিচয় হবে আমাদের যোগ্যতা দিয়ে। আমরা এই রকম একটি বাংলাদেশ গড়ে চাই। আসুন আমরা সেই বাংলাদেশ গড়ে তুলি, যেই বাংলাদেশের জন্য ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা জীবন উৎসর্গ করেছেন। জুলাই যোদ্ধারা নিজেদের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন। আসুন আমরা সেই বাংলাদেশ গড়ে তুলি। আমরা অনেক আন্দোলন করেছি, গণতন্ত্র উদ্ধার করতে। এখন গণতন্ত্র উদ্ধারের পথ ধীরে ধীরে আমাদের সামনে উপস্থিত হয়েছে। এখন গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করার মাধ্যমে আমাদের পরবর্তী কাজ হবে এই দেশকে পুনর্গঠন করা।
তিনি বলেন, আজ এই নির্বাচনী জনসভায় আমি আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সম্পর্কে অনেক কথা বলতে পারতাম। তাতে কি জনগণের উপকার হবে? জনগণের কোনো উপকার হবে না। জনগণের তখনই উপকার হবে, যখন একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা জনগণের জন্য এবং দেশের জন্য সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারবো। জনগণের জন্য তখনই ভালো হবে, দেশের জন্য তখনই ভালো হবে, যখন আমরা জনগণের সমর্থন নিয়ে, জনগণের সহযোগিতা নিয়ে, জনগণের ভোট নিয়ে আমরা দেশ গঠনের কাজে হাত দেব। তখনই জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। কাজেই আমাদের ভাগ্যের পরিবর্তন আমাদের হাতে। আমরা যদি পরিশ্রম করি, আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি, আমরা যদি একসাথে থাকি, আমরা সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবো।