ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদক প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমি।
গত সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ক্ষমতার অপব্যবহার করে নানাবিধ অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে তাকে তলব করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকার এক বছরের জন্য মোহাম্মদ এজাজকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ দেয়। এরপর থেকেই তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম–দুর্নীতির অভিযোগ উঠতে শুরু করে।
আবেদনে বলা হয়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খাতে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে মিরপুর–গাবতলী পশুর হাট ইজারা, ই–রিকশা প্রকল্প, বোরাক টাওয়ার ও হোটেল শেরাটনের অংশীদারিত্ব সংক্রান্ত বিষয়, বনানী কাঁচাবাজারে দোকান বরাদ্দ, খিলগাঁও তালতলা সুপার মার্কেটের পার্কিং স্থানে দোকান নির্মাণ ও বরাদ্দ, সিটি করপোরেশনের ভ্যান সার্ভিস পরিচালনা, ফুটপাতের দোকান বরাদ্দসহ সিটি করপোরেশনের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট আরও বিভিন্ন কার্যক্রম।
দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২২ ধারা এবং দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা, ২০০৭ এর ৮ বিধিসহ ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬০ ধারা মতে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মোহাম্মদ এজাজের বক্তব্য শ্রবণ ও গ্রহণ প্রসঙ্গে নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি দুদক কার্যালয়ে উপস্থিত হননি। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি (মোহাম্মদ এজাজ) দেশ ছেড়ে বিদেশে পলায়ন করতে পারেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়। এতে অনুসন্ধান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তাঁর বিদেশ গমন রহিত করা প্রয়োজন।
দুদকের এই যুক্তি বিবেচনায় নিয়ে মোহাম্মদ এজাজের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির আদেশ দেন আদালত।