হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে পাল্টাপাল্টি হামলা, নৌ অবরোধের হুমকি এবং কৌশলগত অবস্থান নিয়ে দুই দেশের সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি ও মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির কৌশলগত লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। স্থানীয় সময় রাত ২টা ৪৮ মিনিটে হামলার পর এলাকাজুড়ে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তবে হামলায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা টানা ১১তম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে। মার্কিন বাহিনীর দাবি, এসব অভিযানে অপারেশন সেন্টার, ড্রোন সংরক্ষণাগার, বিমান হ্যাঙ্গার, সামুদ্রিক সক্ষমতা এবং সামরিক সরবরাহ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করেছে, গত তিন মাসে আন্তর্জাতিক জলসীমায় চলাচলকারী ৩০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার সঙ্গে ইরান জড়িত। তবে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ইরান ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেছে।
অন্যদিকে তেহরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। ইরানের ভাষ্য, এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা চলমান থাকলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও গ্যাস পরিবহন স্বাভাবিকভাবে চলতে দেওয়া হবে না।
এর আগে যুদ্ধবিরতি ও একটি সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমনের আশা তৈরি হলেও সেই উদ্যোগ কার্যত ভেঙে পড়েছে। ওমান ও কাতারের মধ্যস্থতায় আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা দেখা দিলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, তেলের দাম এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
এখন সবার নজর কূটনৈতিক তৎপরতার দিকে। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান এই সংকট আরও বিস্তৃত হবে, নাকি আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমিত হবে—সেই দিকেই তাকিয়ে রয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।