দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম সংক্রান্ত মামলার আপিলের অনুমোদন দিয়েছেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে আপিল শুনানির জন্য আগামী ৪ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বে ছয় বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
পদমর্যাদাক্রমের বিতর্কের সূত্রপাত ১৯৮৬ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ‘রুলস অব বিজনেস’–এর আওতায় ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স তৈরি করে, যা রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিয়ে প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হয়। ২০০০ সালে এটি সংশোধন করা হয়। তবে সংশোধিত ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সে সংবিধান অনুযায়ী সাংবিধানিক পদ ও প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের অবস্থান নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়।
২০০৬ সালে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব মো. আতাউর রহমান হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। ২০১০ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট ওই সংশোধিত ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স বাতিল করে আট দফা নির্দেশনা দেন। হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসারে, সাংবিধানিক পদধারীরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবেন। এছাড়া জেলা জজদের অবস্থান, অতিরিক্ত জেলা জজ ও সমমর্যাদার বিচারক ও সচিবদের অবস্থানও সংজ্ঞায়িত করা হয়।
এরপর রাষ্ট্রপক্ষ ২০১১ সালে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে, আপিল বিভাগ ২০১৫ সালের ১১ জানুয়ারি রায় দেন। হাইকোর্টের কিছু নির্দেশনা সংশোধন করে তিনটি মূল নির্দেশনা প্রদান করা হয়। রায়ের পূর্ণাঙ্গ প্রকাশ হয় ২০১৬ সালের ১০ নভেম্বর। রায়ে বলা হয়—
১. সংবিধান দেশের সর্বোচ্চ আইন হওয়ায় রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রমের শুরুতে সাংবিধানিক পদাধিকারীদের গুরুত্ব অনুযায়ী অবস্থান দিতে হবে।
২. জেলা জজ ও সমমর্যাদার বিচার বিভাগীয় সদস্যরা রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রমের ২৪ নম্বর থেকে ১৬ নম্বরে সরকারের সচিবদের সমমর্যাদায় উন্নীত হবেন। জুডিশিয়াল সার্ভিসের সর্বোচ্চ পদ জেলা জজ। অন্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরে সচিবরা অবস্থান করেন।
৩. অতিরিক্ত জেলা জজ ও সমমর্যাদার বিচার বিভাগীয় সদস্যদের অবস্থান জেলা জজদের ঠিক পরবর্তী ক্রমে, অর্থাৎ ১৭ নম্বরে।
রায়ে আরও উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম কেবল রাষ্ট্রীয় আচার–অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। নীতিনির্ধারণী বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে এর ব্যবহার করা যাবে না।