সুনামগঞ্জ জেলার ৪ উপজেলায় বজ্রপাতে ৪ কৃষক ও এক শিক্ষার্থীসহ ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে জেলার তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও দিরাই উপজেলার পাগনার হাওর, মাটিয়ান হাওর, টগার হাওর ও বরাম হাওড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—তাহিরপুর উপজেলার আবুল কালাম (২৫), জামালগঞ্জ উপজেলার নাজমুল হোসেন (২৬), ধর্মপাশা উপজেলার হাবিবুর রহমান (২৪) ও রহমত উল্লাহ (১৩) এবং দিরাই উপজেলার লিটন মিয়া (৩৮)।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দুপুরে হাওরে কৃষকরা ধান কাটছিলেন। এ সময় হঠাৎ আকাশ কালো করে প্রচন্ড ঝড় ও বৃষ্টিপাত শুরু হয়। একই সঙ্গে শুরু হয় বজ্রপাত।
তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে আবুল কালাম (২৫) আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্বার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
তাহিরপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, বজ্রপাতে এক কৃষক নিহত হয়েছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে কৃষকের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এদিকে, জামালগঞ্জ উপজেলার পাগনার হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে নূর জামাল (২৬) নামে আরেক কৃষকের মৃত্যু হয়। নিহত কৃষক উপজেলার চানপুর গ্রামের আমির আলীর ছেলে।
জামালগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি বন্দে আলী বলেন, পাগনার হাওরে ধান কাটতে গিয়ে এক কৃষক নিহত হয়েছে। এছাড়াও আরও ১ জন আহত হয়েছে।
একই সময়ে, ধর্মপাশা উপজেলার টগার হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে হাবিবুর রহমান (২৪) নামে আরেক কৃষক আহত হলে স্থানীয়রা থাকে উদ্ধার করে ধর্মপাশা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত হাবিবুর রহমান পাইকুরাটি ইউনিয়নের বড়ইহাটি গ্রামের বাসিন্দা এবং বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের (ডিগ্রি) শিক্ষার্থী ছিলেন।
পাশাপাশি একই উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতীপুর গ্রামে বাড়ির পাশে ধান শুকাতে গিয়ে বজ্রপাতে রহমত উল্লা (১৫) নামে আরেক জনের মৃত্যু হয়।
ধর্মপাশা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদ উল্ল্যা বলেন, আইনীপ্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এছাড়াও জেলার দিরাই উপজেলার বরাম হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে কৃষক লিটন মিয়া গুরুতর আহত হন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. প্রশান্ত দাস তালুকদার।
এসএ