দায়িত্ব গ্রহণের ৬ মাস (১৮০ দিন) পূর্ণ করেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পর থেকে ১৮০ দিনের সার্বিক কার্যক্রম, গৃহীত পদক্ষেপ ও সাফল্য সরাসরি জনগণের সামনে তুলে ধরতে “e-book.pdf” নামে একটি বিশেষ ই–বুক প্রকাশ করা হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং উদ্যোগে সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অংশ হিসেবে এই ডিজিটাল প্রকাশনাটি উন্মুক্ত করা হয়।
ই–বুক‘টিতে মূলত গত ৬ মাসের উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ, সংস্কার ও অর্জনের একটি তথ্যনির্ভর চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, যা পরিবর্তনশীল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার একটি প্রামাণ্য দলিল হিসেবে কাজ করবে।
প্রকাশিত ই–বুক তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন এনেছেন এবং জন–কেন্দ্রিক রাষ্ট্রচর্চা শুরু করেছেন। এর অংশ হিসেবে— সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যানার–ফেস্টুনে এবং সরকারি অফিস, আদালত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী সাধারণ নাগরিকের মতো ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলছেন, যার ফলে তার গাড়িবহরের জন্য কোনো যানজট তৈরি হচ্ছে না। এছাড়া মাত্র ৬জন ছাড়া সব মন্ত্রী ও উপদেষ্টার গাড়িবহর থেকে পুলিশ প্রটোকল সরিয়ে নেয়া হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী নিজ মাসিক মূল বেতনের (১ লাখ ১৫ হাজার টাকা) ১০ শতাংশ অর্থাৎ ১১ হাজার ৫০০ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিচ্ছেন।
অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে সরকারের নেয়া পদক্ষেপগুলোও ই–বুকে বিস্তারিতভাবে উঠে এসেছে।
২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘জীবনবাস্তব বাজেট‘ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। মূল্যস্ফীতি হ্রাস পেয়ে ৯.১৬ শতাংশে নেমে এসেছে এবং দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে।
সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬১টি পণ্যের ওপর কর ও শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে প্রান্তিক মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়ানো হয়েছে।
দেশের অসচ্ছল পরিবারের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড‘ চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে পরিবারের নারী প্রধান প্রতি মাসে ২৫০০ টাকা পাচ্ছেন। কৃষকদের সার, উন্নত বীজ, সেচ ও কৃষি উপকরণে সহায়তা প্রদানের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর ‘কৃষক কার্ড‘ চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রবাসীদের সামাজিক মর্যাদা, রেমিট্যান্স রিওয়ার্ড এবং আইনি সুরক্ষা নিশ্চিতে বিশেষ ‘প্রবাসী কার্ড‘ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকার একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও বহুমাত্রিক নীতি অনুসরণ করছে বলে ই–বুকে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ককে ‘কংপ্রিহেন্সিভ স্ট্র্যাটেজিক কোঅপারেটিভ পার্টনারশিপ‘ থেকে ‘বাংলাদেশ–চীন অভিন্ন ভবিষ্যতের সম্প্রদায়‘-এ উন্নীত করা হয়েছে।
সরকার বিশ্বাস করে জনগণই রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার মূল উৎস, আর তাই “e-book.pdf” প্রকাশের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ধাপে জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে বর্তমান সরকার।
মাসউদ/এসএ