আবারও বিশ্বের দূষিত বাতাসের শহরগুলোর তালিকায় শীর্ষ দশে উঠে এসেছে রাজধানী ঢাকা। ঈদুল ফিতরের ছুটির কারণে রাজধানীর জনসংখ্যা কমে গেলেও বায়ুর মান উন্নতি হয়নি। বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) সকাল ১০টায় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (একিউআই) রেকর্ড অনুযায়ী, বায়ুদূষণে ঢাকার অবস্থান ৯ নম্বরে।
এদিন ঢাকার বাতাসের মান ১৪২ একিউআই পয়েন্টে পৌঁছেছে, যা সংবেদনশীল জনগোষ্ঠীর জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং শ্বাসতন্ত্রজনিত রোগে আক্রান্তদের জন্য এই মাত্রার বাতাস ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচিত। আগের দিন, বুধবার, এই সূচক ছিল ১১৯, যেখানে ঢাকার অবস্থান ছিল ১৬তম।
বৃহস্পতিবার বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহরগুলোর শীর্ষে ছিল ইরাকের বাগদাদ, যেখানে একিউআই সূচক ৪৩১–এ পৌঁছেছে, যা চরম বিপজ্জনক। অন্যান্য দূষিত শহরগুলোর মধ্যে নেপালের কাঠমান্ডু (৩৪৮), ভারতের দিল্লি (২০৩), পাকিস্তানের লাহোর (১৬৮) এবং ভারতের মুম্বাই (১৬৬) উল্লেখযোগ্য।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক গবেষণা সংস্থা আইকিউ–এয়ার জানায়, ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান কারণ বাতাসে অতিক্ষুদ্র বস্তুকণার (PM2.5) উচ্চমাত্রা। এই ধরনের দূষণ দীর্ঘমেয়াদে শ্বাসযন্ত্রের রোগ, হৃদরোগ, এমনকি ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়ায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মতে, প্রতি বছর বায়ুদূষণের কারণে বিশ্বব্যাপী ৬৭ লাখ মানুষ মারা যায়। ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালের (BMJ) ২০২৩ সালের এক গবেষণা অনুযায়ী, শুধুমাত্র জীবাশ্ম জ্বালানির দূষণই বছরে ৫২ লাখ মানুষের মৃত্যুর কারণ।
বিশুদ্ধ বাতাসের সূচক ৫০–এর নিচে থাকে। সূচক ১০১–১৫০ হলে সংবেদনশীল জনগোষ্ঠীর জন্য ক্ষতিকর, ১৫১–২০০ হলে সকলের জন্য অস্বাস্থ্যকর, ২০১–৩০০ হলে তা অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং ৩০০–এর বেশি হলে বিপর্যয়কর হিসেবে চিহ্নিত হয়।
বাইরের বায়ুদূষণের মাত্রা বেশি থাকায়, বিশেষ করে সংবেদনশীল ব্যক্তিদের অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। বাইরে বের হলে মাস্ক পরার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, ইটভাটা ও শিল্পকারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়া কমানো, খোলা স্থানে বর্জ্য পোড়ানো বন্ধ রাখা, নির্মাণসামগ্রী ঢেকে রাখা এবং রাস্তায় ধুলো নিয়ন্ত্রণে পানি ছিটানোর মতো ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। পরিবেশবান্ধব নীতি অনুসরণ না করলে ভবিষ্যতে ঢাকার বায়ুদূষণ আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।