রবিবার, এপ্রিল ৬, ২০২৫
রবিবার, এপ্রিল ৬, ২০২৫

নগদে ৬৪৫ কোটি টাকার জালিয়াতি, মামলা নিয়ে টানাপোড়েন

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক

মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সেবাদাতা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান ‘নগদ লিমিটেড’ ব্যাংকে জমা টাকার চেয়ে অতিরিক্ত ৬৪৫ কোটি টাকার ইমানি ইস্যু করেছে। এছাড়া, অনুমোদন ছাড়াই পরিবেশকদের মাধ্যমে ১,৭১১ কোটি টাকা উত্তোলনের ঘটনাও সামনে এসেছে। এটি দেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় ডিজিটাল আর্থিক জালিয়াতি হিসেবে চিহ্নিত হলেও, এখনো কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। মামলা দায়েরের দায়িত্ব কার, তা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও ডাক অধিদপ্তরের মধ্যে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে টানাপোড়েন চলছে।

এই ঘটনায় নগদ লিমিটেডের ৪১ পরিবেশক এবং ২৪,০৯৭ এজেন্টকে বরখাস্ত করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিযুক্ত প্রশাসক। পাশাপাশি বরখাস্ত করা হয়েছে ৬৪৩ জন বিক্রয় কর্মকর্তাকেও। এছাড়া, শীর্ষ পর্যায়ের ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ডাক অধিদপ্তরের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে। আর বন্ধ করা হয়েছে ৩,৮৩১টি ব্যবসায়িক অ্যাকাউন্ট।

২০১৭ সালে ডাক অধিদপ্তর ও থার্ড ওয়েভ টেকনোলজির মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী, ব্যাংকে জমা থাকা টাকার সমপরিমাণ ইমানি ইস্যু করার নিয়ম থাকলেও, তদন্তে দেখা গেছে নগদ ৬৪৫ কোটি টাকার অতিরিক্ত ইমানি ইস্যু করেছে। একইসঙ্গে, ৪১ পরিবেশকের মাধ্যমে ১,৭১১ কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়, যা সরকারি ভাতা বিতরণের জন্য নির্ধারিত ছিল।

গত ১৮ নভেম্বর প্রশাসক এই অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ডাক অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দিলেও এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র হুসনে আরা শিখা জানিয়েছেন, মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নিতে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে আইনজীবীর মতামত নেয়া হচ্ছে।

২০১৯ সালের ২৬ মার্চ ‘নগদ লিমিটেড’ উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুরু থেকেই প্রতিষ্ঠানটি ক্ষমতাসীন দলের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। সরকারি ভাতা বিতরণসহ একাধিক ক্ষেত্রে একচ্ছত্র সুবিধা পেয়ে প্রতিষ্ঠানটি অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, ভাতাভোগীদের অ্যাকাউন্টে জমা টাকার মধ্যে একটি বড় অংশ তুলে নেয়া হতো, বিশেষ করে যারা তিন দিনের মধ্যে তা উত্তোলন করতেন না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রশাসক দায়িত্ব নেয়ার পর নগদের দৈনিক লেনদেন বাড়ছে। আগস্টে দৈনিক লেনদেন ছিল ৭৪৩ কোটি টাকা, যা নভেম্বরে ১,০০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। বর্তমানে নগদের গ্রাহক সংখ্যা ৯.৫ কোটি ছাড়িয়েছে।

এই জালিয়াতির ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখতে নগদে ফরেনসিক নিরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের বিস্তারিত বিশ্লেষণ করে দায়ীদের চিহ্নিত করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সূত্র: প্রথম আলো

এমএম/আল/দীপ্ত

আরও পড়ুন

সম্পাদক: এস এম আকাশ

অনুসরণ করুন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

স্বত্ব © ২০২৩ কাজী মিডিয়া লিমিটেড

Designed and Developed by Nusratech Pte Ltd.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More