ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসকে হঠিয়ে প্রথমবারের মত বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি–বিজেপি। রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২৬৬টির ফল ঘোষণা করা হয়েছে। এরমধ্যে ১৯২টিতে জয়ী হয়েছে বিজেপি। আর তৃণমূল কংগ্রেস জয় পেয়েছে ৬৮টি আসনে। নিজ আসন ভবানীপুরে হেরেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। পশ্চিমবঙ্গে ২০১১ সাল থেকে টানা ক্ষমতায় থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য এটি বড় পরাজয়। বিজেপির জয় এ রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে টানা দেড় মাস ধরে বিধানসভা নির্বাচনের ম্যারাথন প্রচার প্রচার ও ভোটগ্রহণ পর্ব শেষে সোমবার সকাল থেকে শুরু হয় ভোটগণনা। গণনা শুরুর পর থেকেই আভাস পাওয়া যাচ্ছিলো, টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার লক্ষ্য থেকে ছিটকে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। আর প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতার মসনদ দখল করতে যাচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি–বিজেপি।
পশ্চিমবঙ্গে ভোট গণনায় ২৯৪ আসনের মধ্যে ২০৭ আসনে এগিয়ে থেকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে রয়েছে বিজেপি। ক্ষমতাসীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে রয়েছে ৮০টি আসনে।
এছাড়া বামজোট দুটি আসনে এগিয়ে আছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, স্বাধীনতা–উত্তর পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের জন্য এমন ক্ষুরধার প্রতিযোগিতা দেখা যায়নি।
সবচেয়ে আলোচিত আসন ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিপক্ষে লড়ছেন বিরোধীদলীয় নেতা বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। এই আসনেও মমতার তুলনায় এগিয়ে রয়েছেন তিনি। আর তার নিজ আসন নন্দীগ্রামে একটানা ৩ বার…জয়ের হ্যাটট্রিক করেছেন শুভেন্দু।
ইতিমধ্যে রাজ্যজুড়ে বিজয় উল্লাস করছেন বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। জয়ের পথে থাকা বিজেপি সরকার গঠন করলে কে হতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী, সে আলোচনাও শুরু হয়ে গেছে। এ নির্বাচনের আগে বিজেপির কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বারবার জোর দিয়ে বলেছিলেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একজন বাঙালিই হবেন।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিপুল জয়ে অভিভূত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বাংলায় পদ্ম ফুটেছে, মানুষের স্বপ্ন পূরণে সবকিছু করবে বিজেপি, বলে জানান তিনি।
পশ্চিমবঙ্গে ২০১১ সাল থেকে টানা ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের এটি হচ্ছে বড় পরাজয়। এ রাজ্যে বিজেপির জয়, রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছে।