শনিবার, জানুয়ারি ২৪, ২০২৬
শনিবার, জানুয়ারি ২৪, ২০২৬

তিন বছর পর চায়ের শহরে ফিরেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ তিন ওয়ানডে দিয়ে শুরু হচ্ছে আইরিশদের বিপক্ষে বাংলাদেশের সিরিজ। সিলেটে অনুষ্ঠিত ৩টি ওয়ানডে, চট্টগ্রামে ৩ টি-টোয়েন্টিসহ সব ম্যাচই বাংলাদেশ সময় দুপুর দুইটায় শুরু হবে। মিরপুরে একমাত্র টেস্ট শুরু হবে সকাল ১০টায়।

ওয়ানডে দিয়েই দীর্ঘ তিন বছরের বিরতি কাটিয়ে চায়ের দেশ খ্যাত সিলেটে ফিরছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। এই ওয়ানডে সিরিজকে নিয়ে সিলেটের ক্রিকেট ভক্তদের মধ্যে উৎসাহের কমতি নেই।

সিলেটের ক্রিকেট ভক্তরা বলছেন, সিলেটের দর্শকদের মধ্যে ক্রিকেট নিয়ে উন্মাদনার কমতি নেই। এর প্রমাণ সবশেষ বিপিএল-এ পাওয়া যায়। অন্যান্য স্টেডিয়ামে যখন দর্শক খরা চলছিল তখন সিলেট স্টেডিয়াম ছিল দর্শকে পরিপূণ। কেন এই স্টেডিয়ামকে এত অবহেলা করা হয় সেই প্রশ্ন অনেকের। এই স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজনের দাবি করেছেন সিলেটের ক্রিকেট ভক্তরা।

ক্রিকেট ভক্ত মোহিত তালুকদার সিলেটকে দ্বিতীয় লণ্ডন আখ্যা দিয়ে সিলেটে বাংলাদেশ বনাম ইংল্যান্ডের একটি ম্যাচও না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলে সিলেট আর লন্ডন নিয়ে সিলেটিদের আবেগ অন্যমাত্রার।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম

নয়নাভিরাম সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের চারপাশে সবুজ আর সবুজ। যে সবুজের বেশিরভাগজুড়ে চা বাগান। দুই পাতা আর এক কুঁড়ির শহরে এটাই চিরচেনা দৃশ্য। সবুজ ঘাসের এ গালিচায় সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়াম গড়ে ওঠে ২০০৭ সালে। দেশের একমাত্র স্টেডিয়াম যেখানে আছে দর্শকদের জন্য গ্রীন গ্যালারি! সবুজ ঘাসে ছাওয়া মাটির টিলায় শুয়ে-বসে ‘রৌদ্র স্নান’ করতে করতে খেলা উপভোগের সুযোগ।

মাঠের ভেতরে, গ্যালারিতে এবং বাইরে নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের লীলাভূমি হয়ে ওঠা এই স্টেডিয়ামের লাগোয়া অংশেই এখন গড়ে উঠেছে একই নামে গ্রাউন্ড-২, যার মনলোভা সৌন্দর্য ছাপিয়ে গেছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া মূল ভেন্যুটিকেও।

প্রথমে একাডেমি গ্রাউন্ড, পরবর্তীতে আউটার স্টেডিয়াম হলেও সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম গ্রাউন্ড-২ নামেই এখন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এটিকে গড়ে তুলছে। সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে গড়া এই মাঠটির সিংহভাগ গ্যালারির পাহাড়ী টিলার ‘গ্রীন গ্যালারি’। নিঃসন্দেহে এটি দেশের ক্রিকেট অবকাঠামোর ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত।

ইতোমধ্যেই মাঠটিতে আছে সব মিলিয়ে ১৭টি উইকেট। এর মধ্যে মাঠের মাঝে ৯টি এবং শুধুমাত্র অনুশীলনের জন্য দুই পাশে ৪টি করে ৮টি উইকেট তৈরি করা হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আনা মাটি দিয়ে। আর ঘাসের চারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে এনে লাগানো হয়েছে। পানি নিষ্কাষণ ব্যবস্থাও উন্নতমানের সুবিধা সংবিলত করা হয়েছে। এই গ্রাউন্ড-২ প্রবেশের মুখেই করা হয়েছে আরও ৬টি অনুশীলন উইকেট।

মূল স্টেডিয়ামের সঙ্গে লোহার ব্রিজে সংযুক্ত করা খেলোয়াড়দের জন্য ৪টি উন্নতমানের ড্রেসিং রুম। আইস বাথ নেয়াসহ অন্যান্য উন্নত সুবিধার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এখানে। ক্রিকেটারদের ডাইনিং রুম ছাড়াও সাংবাদিক, আম্পায়ার, ম্যাচ রেফারি ও ম্যাচ অফিসিয়ালদের জন্য আছে উন্নতমানের সুবিশাল কক্ষ। ভিআইপি ও বিসিবির আমন্ত্রিত বিশেষ অতিথিদের জন্য হসপিটালিটি বক্সও আছে।

অথচ বাংলাদেশের মধ্যে এমন দৃষ্টি নন্দন ও সর্বাধুনিক ভ্যানু থাকা সত্ত্বেও কেন এর যথাযথ ব্যবহার করছে না ক্রিকেট বোর্ড সেই প্রশ্ন সিলেটের সকল মহলে।

 

আল/দীপ্ত

 

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More