ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে পৃথক তিনটি সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত চারজন। বুধবার (৩১ মার্চ) ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত দাউদকান্দি, নিমসার ও চান্দিনা এলাকায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
ভোররাতে দাউদকান্দি উপজেলার কানড়া এলাকায় অজ্ঞাত একটি গাড়ির চাপায় দুই অটোরিকশা চালক নিহত হন। নিহতরা হলেন– উপজেলার সরকারপুর গ্রামের মৃত লতু মিয়ার ছেলে বারেক (৪২) এবং মো. নুর ইসলামের ছেলে মোস্তফা (৪০)। তারা পেশায় অটোরিকশা চালক ছিলেন।
একই ঘটনায় আহত হন নবীর হোসেন (৩৮), কাওসার (৪০), ইসমাইল (৩৭) ও সাগর মিয়া (৩৫)। তাদের কুমিল্লার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিএনজি চালিত একটি অটোরিকশায় ছয়জন যাত্রী বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় মহাসড়কে উল্টো পথে পারাপারের চেষ্টা করলে দ্রুতগতির অজ্ঞাত একটি গাড়ি অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হন।
নিহতদের স্বজনরা জানান, তারা মতলবের বেলতলী এলাকায় একটি মেলা থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে ভোর ৩টা ৪৫ মিনিটে কুমিল্লার নিমসার বাজার সংলগ্ন ইউটার্নে আরেকটি দুর্ঘটনায় দুই যুবকের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন– নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার লালপুর গ্রামের মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম মইন(২৭) এবং মেহেরপুর সদর উপজেলার কেশবপুর গ্রামের মো. সোহেল রানা (৩৫)।
ময়নামতি হাইওয়ে পুলিশ জানায়, ঢাকা অভিমুখী লেনে সংঘটিত এ দুর্ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। দুর্ঘটনার কারণ ও সংশ্লিষ্ট যানবাহন শনাক্তে কাজ চলছে।
এদিকে আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চান্দিনা উপজেলার কাঠের পুল এলাকায় সড়ক পারাপারের সময় লরিচাপায় প্রাণ হারায় নবম শ্রেণির ছাত্র ইবনে তাইম। সে চান্দিনা পৌরসভার রাড়িরচর এলাকার বাবুল মিয়ার ছেলে এবং বড় গোবিন্দপুর আলী মিয়া ভূইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল।
স্থানীয়রা জানান, কোচিং শেষে বাড়ি ফেরার পথে ইউটার্নে রাস্তা পারাপারের সময় চট্টগ্রামগামী একটি লরি তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর এলাকাবাসী ঘাতক লরিটি আটক করে।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল বাহার মজুমদার এবং ময়নামতি হাইওয়ে থানার ওসি আব্দুল মমিন পৃথকভাবে জানান, দুর্ঘটনাগুলোর বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।