বলিউডের কালজয়ী গান ‘ইয়া আলি’ খ্যাত গায়ক ও আসামের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জুবিন গর্গের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর মাত্র ৫২ বছর বয়সে সিঙ্গাপুরে একটি শো চলাকালীন মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনায় মারা যান এই কিংবদন্তি শিল্পী। সুরের জাদুকরের সেই আকস্মিক প্রয়াণে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল গোটা সঙ্গীত জগত।
জুবিন গর্গ কেবল একজন কণ্ঠশিল্পী ছিলেন না; তিনি ছিলেন একাধারে সুরকার, গীতিকার, সঙ্গীত পরিচালক ও অভিনেতা। আসামের ঐতিহ্যবাহী বিহু গীত ও আঞ্চলিক গানকে আধুনিক রূপ দিয়ে বিশ্বমঞ্চে পরিচিত করার পাশাপাশি হিন্দি চলচ্চিত্রের মূলধারার গানেও নিজের অসামান্য মেধার স্বাক্ষর রেখেছিলেন তিনি।
১৯৯২ সালে অসমীয়া ভাষার একক অ্যালবাম ‘অনামিকা‘ দিয়ে সংগীত জগতে তার পেশাদারী পথচলা শুরু হয়। ১৯৯৫ সালে মুম্বাইতে পাড়ি জমানোর পর বেশ কিছু কাজ করলেও ২০০৬ সালে ‘গ্যাংস্টার‘ চলচ্চিত্রের ‘ইয়া আলি‘ গানটি তাকে গোটা উপমহাদেশে বিপুল পরিচিতি ও বিপুল সাফল্য এনে দেয়। গানটির জন্য তিনি ‘গ্লোবাল ইন্ডিয়ান ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস‘ এবং স্টারডাস্ট পুরস্কার লাভ করেন।
এছাড়াও হৃতিক রোশনের কৃষ ৩ সিনেমার ‘দিল তু হি বাতা‘ এবং আই সি ইউ সিনেমার ‘সুবাহ সুবাহ‘ গানগুলো শ্রোতাদের মাঝে দারুণ সাড়া ফেলে।
বাংলা সংগীতের প্রতি ভালোবাসানিজেকে সবসময় ‘আধা বাঙালি‘ মনে করতেন জুবিন। বলিউডের অনুকরণ বা কপি করার সংস্কৃতির প্রতি অনীহা থাকায় তিনি পরবর্তীতে মুম্বাই থেকে দূরত্ব বজায় রেখে বাংলা ও অসমীয়া আঞ্চলিক গানে বেশি মনোনিবেশ করেন। কলকাতার চলচ্চিত্রে তিনি ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয় নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী। দেব, সোহমদের সিনেমার জনপ্রিয় গান যেমন— ‘বোঝেনা সে বোঝেনা‘, ‘পিয়া রে‘, এবং ‘মন মানেনা‘ এর মতো অসংখ্য হৃদয়স্পর্শী গান তিনি উপহার দিয়েছেন।
বহুমুখী প্রতিভা ও চলচ্চিত্রজুবিন কেবল কণ্ঠশিল্পীই ছিলেন না, তিনি ঢোল, দোতারা, ড্রামস, গিটার, হারমোনিয়াম ও কিবোর্ডসহ প্রায় ১২টি বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পারতেন। চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রেও তার অবদান অনস্বীকার্য। ২০০৯ সালে ইকোজ অফ সাইলেন্স চলচ্চিত্রের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। তার অভিনীত ও পরিচালিত শেষ চলচ্চিত্র ‘রই রই বিনালে‘ তার মৃত্যুর কয়েক মাস পর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়।