‘আমি আইনমন্ত্রী হয়ে ঠকে গেছি। আইনজীবী হিসেবে কোর্টে গেলে প্রতিদিন কিছু ইনকাম থাকত। এখন পুরো মাস ভূতের মতো খেটে কিছু টাকা পাচ্ছি’— বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি)’র ‘ল’ গ্র্যাজুয়েটদের সম্মাননা প্রদান উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘ফেলিসিটেশন প্রোগ্রাম ২০২৬’–এ প্রধান অতিথি বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু অর্থ উপার্জনকে পেশার সাফল্যের মাপকাঠি না ধরে আইনজীবীদের পেশাদারিত্ব ও দক্ষতা অর্জনে মনোযোগী হতে হবে।’
তিনি বলেন, আইন পেশায় প্রতিদিন শেখার সুযোগ রয়েছে। যত বেশি পড়াশোনা করা হবে, তত বেশি জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব। বিশেষ করে ভালো ড্রাফটিংসহ পেশাগত দক্ষতা অর্জনের জন্য আইনজীবীদের নিয়মিত অধ্যয়ন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টে প্রায় ১৮ হাজার আইনজীবী থাকলেও তাদের মধ্যে কতজন ভালো আইনজীবী, তা নির্ধারণের কোনো উপায় নেই। এটিই তিক্ত বাস্তবতা।’
দেশে বর্তমানে প্রায় ৮০ হাজার আইনজীবী রয়েছেন। তবে তাদের পেশাগত মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী।
আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আইনজীবীদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। তবে বর্তমান সরকার নতুন ও পেশাজীবী আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে।’
আইনমন্ত্রী বলেন, আইনজীবীর দায়িত্ব শুধু অর্থের বিনিময়ে মামলা পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অসহায় ও দরিদ্র মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করাও আইনজীবীদের সামাজিক ও পেশাগত দায়িত্ব।
এসএ