বাংলাদেশের ফুটবলের অনেক ইতিহাসই রচনা রয়েছে নারী ফুটবলের হাত ধরে। দক্ষিণ এশিয়ান অঞ্চলে আধিপত্য তৈরি করেছে বাংলার বাঘিনীরা। আরও একটি ইতিহাস থেকে মাত্র এক কদম দূরে লাল–সবুজের প্রতিনিধিরা। আজ ভারতকে হারাতে পারলেই সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের হ্যাটট্রিক শিরোপা ঘরে তুলবে বাংলাদেশ।
শনিবার (৬ জুন) সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারতের জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। খেলা শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায়। সরাসরি সম্প্রচার করবে টি–স্পোর্টস ও টি–স্পোর্টস ইউটিউব চ্যানেল।
সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের টানা দুইবারের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। এর মধ্যে দুইবারই স্বাগতিক দেশকে হারিয়েই শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছিল লাল–সবুজের প্রতিনিধিরা। এবারও সামনে এক স্বাগতিক দেশ– ভারত। তাদেরকে হারাতে পারলেই প্রথম দেশ হিসেবে সাফের টানা তিনবারের শিরোপা ঘরে তুলবে বাংলাদেশ।
অবশ্য চলমান সাফে নিজেদের সেরা ছন্দে নেই বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বেও একই গ্রুপে ছিল বাংলাদেশ আর ভারত। মুখোমুখি সেই দেখায় বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ছিল চরম হতাশার। সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে নিষ্প্রাণ ফুটবল উপহার দিয়েছিল বাংলাদেশ। হেরেছিল ৩–০ গোলের ব্যবধানে।
সেমিফাইনালে অবশ্য ভারতের বিপক্ষের সেই নিষ্প্রাণ ফুটবলে কিছুটা প্রাণ সঞ্চার করেছিল বাংলাদেশ। এশিয়ার আরেক শক্তিশালী নেপালের বিপক্ষে ২–১ গোলের জয়ে টানা তৃতীয়বার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছিল কোচ পিটার বাটলারের দল।
তবে ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের পরিসংখ্যান খুব একটা সুখকর নয়। ভারতের মাটিতে খেলা সাফের তিনটি ম্যাচের মধ্যে দুটিতে হেরেছে বাংলাদেশ আর একটি ম্যাচে করেছে গোলশুন্য ড্র। সেটি অবশ্য ছিল ২০১৬ সালে। তখন কেবলই ফুটবলে বেড়ে উঠছিল বাংলাদেশ। এই সময়ে ২০১৯ সালে নেপালে আরও একবার ভারতের কাছে হেরে যায় বাংলাদেশ। আরেকটি ম্যাচে হারে চলমান সাফে।
পরের গল্পে অবশ্য জয়ের উল্লাসও করেছে বাংলাদেশ। চলমান সাফের আগের দুই দেখায় ৩–০ আর ৩–১ গোলের জয় তুলে নিয়েছে লাল–সবুজের প্রতিনিধিরা।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের লড়াই এখন আর শুধু মাঠের নয়, এই লড়াইটা রূপ নিয়ে ইতিহাস আর ঐতিহ্যের। ফুটবলারও সেটি অনুভব করেন। এর আগে ফুটবলার শামসুন্নাহার সিনিয়রও বলেছিলেন সেই কথা, ‘আসলে, ভারতের সঙ্গে জিতলে আমাদের আলাদা একটা ভালোলাগা কাজ করে। আমাদের না শুধু, দেশবাসীর, বাংলাদেশের সবারই একটা ভালো কাজ করে। সেই ক্ষেত্রে আমার মনে হয়, ভারতের বিপক্ষে জেতা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’
এর আগে ২০১৬ সালেও একবার সাফের ফাইনালেও মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ আর ভারত। সেবার বাংলাদেশকে ৩–১ গোলে হারিয়ে শিরোপা রেখে দিয়েছিল ভারত। এবার সেই হারের মধুর প্রতিশোধ নেওয়ার লক্ষ্য বাংলাদেশের সামনে।