শনিবার, মে ১৬, ২০২৬
শনিবার, মে ১৬, ২০২৬

এশিয়াজুড়ে সার্কুলার ইকোনমি এগিয়ে নিতে যাত্রা শুরু করল ‘সাচিন’

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক
এশিয়াজুড়ে 'সার্কুলার ইকোনমি' (চক্রাকার অর্থনীতি) এগিয়ে নিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করলো গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'সোসাইটি ফর এশিয়ান সার্কুলার ইনোভেশন নেটওয়ার্ক' (সাচিন)।

এশিয়াজুড়ে সার্কুলার ইকোনমি‘ (চক্রাকার অর্থনীতি) এগিয়ে নিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করলো গবেষণা প্রতিষ্ঠান সোসাইটি ফর এশিয়ান সার্কুলার ইনোভেশন নেটওয়ার্ক‘ (সাচিন)

শনিবার (১৬ মে) তেজগাঁও অবস্থিত বিসিআই কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আত্মপ্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি।

আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে সাচিনএর প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট প্রীতি চক্রবর্তী বলেন, সংস্থাটির লক্ষ্য হলো গবেষণা, উদ্ভাবন, নীতিনির্ধারণী সম্পৃক্ততা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে এশিয়াজুড়ে টেকসই উন্নয়নকে এগিয়ে নেওয়া।

তিনি বলেন, “আজ আমরা শুধু একটি সংস্থার সূচনা করছি না; আমরা একটি নতুন চিন্তা, একটি নতুন যাত্রা এবং একটি নতুন দায়িত্ব শুরু করছি।”

সোসাইটি ফর এশিয়ান সার্কুলার ইনোভেশন নেটওয়ার্ক‘ (সাচিন)-এর স্লোগান— “থিংক সার্কুলার. ইনোভেট রিজিওনালি, ইমপ্যাক্ট গ্লোবালি”।

সংস্থাটি প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশের বৃহত্তম রপ্তানি খাত পোশাক শিল্পকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম শুরু করলেও পর্যায়ক্রমে কৃষি, উৎপাদন, নির্মাণ ও রিয়েল এস্টেট, স্বাস্থ্যসেবা, প্লাস্টিক, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, আর্থিক পরিসেবা, পানি ও স্যানিটেশন, জাহাজ নির্মাণসহ আরও বিস্তৃত শিল্পখাতে কাজ করবে।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—ইউরোচ্যাম বাংলাদেশ চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজ, সৌদি আরববাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এসএবিসিসিআই) সভাপতি আশরাফুল হক চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় রসায়ন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডক্টর মনির উদ্দিন, অর্গানাইজেশন ফর রিডাকশন অব কার্বন ফুটপ্রিন্ট ইন বাংলাদেশ প্রেসিডেন্ট জেড এম গোলাম নবী,এবং এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার পত্রিকা সম্পাদক মোল্লা আমজাদ হোসেন।

এছাড়া, সাচিনএর নির্বাহী কমিটি সদস্য মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু, ভাইসপ্রেসিডেন্ট শিয়াবুর রহমান শিহাব, মহাসচিব শাফায়াত হোসেন, উপদেষ্টা একেএম জাহিদুল আলম, যুগ্ম সচিব শেখ মো. রিজভী নেওয়াজ, কোষাধ্যক্ষ স্থপতি মো. নাজমুছ ছাকিব এবং নির্বাহী কমিটি সদস্য মাহফুজুর রহমান অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

ইউরোচ্যাম বাংলাদেশ চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজ বলেন, বৃত্তাকার অর্থনীতি ও টেকসই উন্নয়নকে বাংলাদেশ কেবল বিশ্ববাজারের চাপিয়ে দেওয়া নিয়মকানুন হিসেবে দেখলে হবে না।

তিনি বলেন, “বৃত্তাকার অর্থনীতিতে গ্রহণ এখন বাংলাদেশের জন্য একটি টেকসই বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের কেন্দ্র হয়ে ওঠার, সবুজ বিনিয়োগ আকর্ষণ করার, ইউরোপে রপ্তানি শক্তিশালী করার এবং দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার এক বিরাট সুযোগ এনে দিয়েছে।”

সাচিনএর প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট প্রীতি চক্রবর্তী বলেন, প্রকৃতি থেকে সম্পদ গ্রহণ, পণ্য তৈরি, ব্যবহার এবং ফেলে দেওয়াএই অর্থনৈতিক মডেলটি আর টেকসই নয়।

তিনি উল্লেখ করেন, “পরিবেশগত টেকসইতা ও জনস্বাস্থ্য গভীরভাবে পরস্পর সংযুক্ত। পানি দূষিত হলে মানুষ অসুস্থ হয়। বাতাস দূষিত হলে শিশু ও বয়স্করা কষ্ট পায়। টেকসই উন্নয়ন এখন আর ঐচ্ছিক নয়; এটি অপরিহার্য।”

অনুষ্ঠানে সাচিন জানায়, প্রতিষ্ঠানটি ৪টি প্রধান ক্ষেত্রে কাজ করবে। সেগুলো হলো— গবেষণা ও উন্নয়ন, নীতিগত পরামর্শ ও সহায়তা, নেটওয়ার্কিং ও সহযোগিতা, জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়া এবং সচেতনতা বৃদ্ধি।

সংস্থাটি এশিয়ান সাসটেইনেবিলিটি ডেটা অ্যান্ড এআই পোর্টাল, সার্কুলার টেক অ্যান্ড ইনোভেশন মার্কেটপ্লেস, সাচিন একাডেমি অ্যান্ড সার্টিফিকেশন, সার্কুলার সলিউশনস ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যাটফর্ম, এশিয়ান সার্কুলার ইকোনমি অ্যান্ড ক্লাইমেট সামিটসহ বেশ কিছু ভবিষ্যৎ উদ্যোগেরও ঘোষণা দিয়েছে।

সাচিন আরও জানিয়েছে, তাদের কাজ জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি), বিশেষ করে এসডিজি ১২ (দায়িত্বশীল ভোগ ও উৎপাদন), এসডিজি ১৩ (জলবায়ু কার্যক্রম) এবং এসডিজি ১৭ (লক্ষ্য অর্জনের অংশীদারিত্ব)সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে গবেষক, উন্নয়ন পেশাজীবী, শিল্প প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ এবং গণমাধ্যম সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

মাসউদ/এসএ

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More