
শেখ হাসিনা পালানোর ভিডিও প্রকাশ ও ‘র’ সম্পৃক্ততা নিয়ে যা বলেছিলেন তাহসিফ

শেখ হাসিনা দেশত্যাগের ভিডিও প্রকাশ এবং ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’–এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার দাবি নিয়ে নিজ অবস্থান তুলে ধরেছিলেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনী সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি।
ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগের কারণে তাকে বিমানবাহিনী থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করেছিলেন তিনি। তবে ‘র’–এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগকে হাস্যকর বলে উড়িয়ে দেন তাহসিফ।
‘স্পিক উইথ রশিদ’ ইউটিউব চ্যানেলের একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেছিলেন তিনি। তাহসিফের মৃত্যুর পর ভিডিওটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
গত ২১ জুলাই ওই চ্যানেলে ‘Milestone Tragedy: Inside the Bangladesh Air Force’ শিরোনামে ভিডিও প্রকাশিত হয়। সেখানে মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির পাশাপাশি ভিডিও শেষ অংশে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ফাঁসসহ উপস্থাপকের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তাহসিফ। তিনি নিজেও মাইলস্টোন কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন।
পডকাস্টে উপস্থাপক তাহসিফের কাছে জানতে চান, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ধারণ ও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ এবং বিমানবাহিনীর অভ্যন্তরে ‘র’–এর নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার যে দাবি উঠেছিল, সেগুলো কতটা সত্য।
জবাবে তাহসিফ বলেন, ‘প্রথমত আমার মনে হয় আমার দেশ যে প্রতিবেদনটা করেছে এটা তারা আসলে কোনো প্রোপাগান্ডা সার্ভ করছে। আমি জানি না তাদের উদ্দেশ্য কী? ওখানে ক্লিয়ারলি লেখেছে তারা যে আমি ভিডিওটা ছড়িয়েছি। আমি যে শ্যুট করেছি এটাও কিন্তু তারা বলেনি। বলেছে যে রিফাত আশরাফি ভিডিওটা করেছে এবং আমি ভিডিওটা নাকি ছড়িয়ে দিয়েছি।
তো আমি যদি ভিডিওটা করেও থাকি বা ছড়িয়েও থাকি মানে হোয়াট ইজ দ্যা প্রুফ দেওয়ার হ্যাভিং। আমি এটা জিজ্ঞেস করতে চাই। আর এটাও হতে পারে যে এজন্যই আমি আজকে হয়তো এয়ারফোর্সে নেই।’
এরপর উপস্থাপক প্রশ্ন করেন, আপনি কি আসলে মনে করেন যে শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য আপনাকে এয়ারফোর্স থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে?
জবাবে তাহসিফ সাউরি বলেন, হতে পারে। কারণ যে ঘটনাগুলো ওই সময় ঘটেছিল আমি সবকিছু বলবো না। বা আমারও কিছু অপারগতা আছে। আমার মনে হয় যে এই এলিগেশনের কারণে তারা এই জিনিসটা করেছে। আর আমার দেশের দিকে দেখেন তারা লেখেছে, আমি ভিডিও ভাইরাল করেছি কিন্তু টেমপ্লেটটা যখন বানিয়েছে “বিমানবাহিনীর অভ্যন্তরে ‘র’ নেটওয়ার্ক ফাঁস”। চারজনের ছবি, ওখানে আমার ছবি।
এটা তো একদমই রেলিভেন্ট না এবং আমার কোনো কানেকটিভিটি নাই। যেহেতু মানুষ পুরা প্রতিবেদন পড়ে না। শুধু মানে হেডলাইন দিয়ে গো থ্রু করে। তো আমার আসলে এটার জন্য অনেক সোশ্যাল অ্যাম্বারেসমেন্ট হ্যারাসমেন্ট ফেস করতে হয়েছে। এই জাস্ট একটা প্রতিবেদন মানে ভুল প্রতিবেদনের জন্য।

এরপর উপস্থাপক পাল্টা প্রশ্ন করেন, আপনি বলছেন যে এটা হতে পারে এয়ারফোর্সের দিক থেকে আপনাকে অব্যাহতি দেওয়ার কারণ, ভিডিওটা ধারণ করা। ‘র’ সম্পৃক্ততার যে ঘটনাটা সেটা আপনি ডিনাই করছেন। এখন আপনি তো অফকোর্স যদি ‘র’ সম্পৃক্ত থাকেন সেটা আমাদেরকে বলবেন না আপনি ‘র’ সম্পৃক্ত।
জবাবে তাহসিফ সাউরি বলেন, আসলে ‘র’ সম্পৃক্ত থাকলে তাইলে আমি বাংলাদেশে কেন? তাই না? ‘র’ সম্পৃক্ত থাকলে আমি পাবলিকলি কথা বলছি কেন? একটা গোয়েন্দা সংস্থার কাজ তো এটা না যে ঘুরে ফিরে বেড়ানো এরকম। হ্যাঁ, এটা খুবই মানে হাস্যকর একটা ক্লেইম এবং আইএসপিআরের বিবৃতি আপনি একটু পড়ে দেখবেন ওখানে ক্লিয়ারলি স্টেটমেন্ট দিয়ে দিয়েছে যে এরকম কোনো সম্পৃক্ততা আমার নেই।
উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তুরাগ নদ থেকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি (২৮)’র মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ।
মরদেহের পরনে সাদা পায়জামা ও কালো জামা এবং হাতে ঘড়ি ও পকেটে আইফোন পাওয়া যায়।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন নৌ পুলিশের ঢাকা অঞ্চলের টঙ্গী ফাঁড়ি পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন।
তাহসিফ সাউরি উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টর এলাকায় বসবাস করতেন। গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে তিনি নিখোঁজ হন।
তথ্য: জাগো নিউজ
এসএ






এই সংবাদে মন্তব্য গ্রহণ বন্ধ আছে।