দীপ্ত নিউজ
তথ‍্য ও প্রযুক্তি

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ড: তদন্তের মুখোমুখি হচ্ছে চ্যাটজিপিটি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ড: তদন্তের মুখোমুখি হচ্ছে চ্যাটজিপিটি

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থীকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা সাজাতে এবং মরদেহ গুমের উপায় খুঁজতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চ্যাটবট চ্যাটজিপিটির সহায়তা নিয়েছিলেন অভিযুক্ত হিশাম সালেহ আবু গার্বি। এই তথ্যের ভিত্তিতে চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই এখন আইনি তদন্তের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।

আদালতের নথি ও প্রসিকিউটরদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগীরা নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন আগে ১৩ এপ্রিল চ্যাটজিপিটির কাছে হিশাম জানতে চেয়েছিলেন, “মানুষকে প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে ডাস্টবিনে ফেলে দিলে কী হয়?” জবাবে চ্যাটবটটি একে বিপজ্জনক ও বেআইনি হিসেবে সতর্ক করলেও হিশাম পাল্টা প্রশ্ন করেছিলেন, “কর্তৃপক্ষ এটি কীভাবে খুঁজে পাবে?” এই কথোপকথন থেকে স্পষ্ট যে, হত্যার আগে থেকেই হিশাম তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার করে অপরাধের ছক এঁকেছিলেন।

নিহত শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের ছোট ভাই জুবায়ের আহমেদ সিএনএন–কে জানিয়েছেন, খুনের মাত্র দুই সপ্তাহ আগে লিমন তার রুমমেট হিশামের বিরুদ্ধে ভবন ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। লিমন জানিয়েছিলেন, হিশাম অত্যন্ত বিরক্তিকর ও অসামাজিক প্রকৃতির মানুষ। মাত্র দুই মাস আগে ওই অ্যাপার্টমেন্টে উঠেছিলেন লিমন এবং ভাইয়ের সাথে শেষ আলাপেও তিনি রুমমেটকে নিয়ে গভীর উদ্বেগের কথা জানিয়েছিলেন।

ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমিয়ার জানিয়েছেন, অপরাধমূলক কাজে এআই ব্যবহারের এই ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ওপেনএআই–এর সুরক্ষা ব্যবস্থা কেন এই অপরাধমূলক কুয়েরিগুলোকে আটকাতে ব্যর্থ হলো, তা খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ ফৌজদারি তদন্ত শুরু হয়েছে।

এদিকে, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার দুই মেধাবী শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মৃত্যুতে পুরো কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, লিমনের মরদেহ উদ্ধার হলেও নাহিদার সন্ধানে এখনো তল্লাশি চলছে। অভিযুক্ত হিশাম বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে ‘ফার্স্ট–ডিগ্রি মার্ডার‘-এর অভিযোগ আনা হয়েছে।