নতুন বস এনজো মারেস্কা দলে যোগ দেবার পর থেকে ম্যানচেস্টার সিটিকে শক্তিশালী করার কাজে হাত দিয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় ফরোয়ার্ড ফিল ফোডেনের সাথে চার বছরের জন্য চুক্তি নবায়ন করেছে ম্যান সিটি।
নতুন চুক্তি ইংলিশ এই ফরোয়ার্ডকে আরো স্থিতিশীল হতে সহযোগিতা করবে। চোটে জর্জরিত একটি কঠিন সময়ে তিনি ফর্ম হারিয়ে ফেলেছিলেন, এমনকি সাম্প্রতিক বিশ্বকাপের জন্য ইংল্যান্ডের দলেও জায়গা পাননি।
আগামী মৌসুমের পর তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নতুন চুক্তিতে আরও এক বছর মেয়াদ বাড়াানোর সুযোগ রাখা হয়েছে, যা তার দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়েছে।
ফোডেন বলেন, “সিটির সঙ্গে আমার ভবিষ্যৎ বেঁধে ফেলতে পারা আমার জন্য সবকিছুর চেয়ে বড়। এই ক্লাবের হয়ে খেলাই সবসময় আমার স্বপ্ন ছিল। এই জার্সি গায়ে তোলা সবসময়ই গর্বের।“
তিনি আরও বলেন, “আমি জানি, অসাধারণ এক সময়ের অংশ হতে পেরে আমি ভাগ্যবান। আমরা অসংখ্য শিরোপা জিতেছি, কিন্তু আমরা সবসময় ভবিষ্যতের দিকেই তাকিয়ে থাকি এবং আরও শিরোপা জিততে চাই। ক্লাব, কোচিং স্টাফ, সতীর্থ ও সমর্থকদের আমি শুধু ধন্যবাদ জানাতে পারি। তারা আমার ওপর যে আস্থা রেখেছেন, তার প্রতিদান হিসেবে আমি সবসময় সিটির জন্য নিজের শতভাগ দেওয়ার চেষ্টা করেছি এবং আশা করি আগামী অনেক বছরও তা করতে পারব।“
ক্লাবের যুব একাডেমি থেকে উঠে আসা ফোডেন ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে এখন পর্যন্ত ছয়টি প্রিমিয়ার লিগ, একটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, দুটি এফএ কাপ এবং পাঁচটি লিগ কাপ জিতেছেন।
তিনি ক্লাবটির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি শিরোপাজয়ী খেলোয়াড়দের একজন। এই তালিকায় তার সঙ্গে রয়েছেন বার্নার্ন্ডো সিলভা ও জন স্টোনস, যারা দুজনই গত মৌসুম শেষে ক্লাব ছেড়ে গেছেন।
তবে এক বছর আগে গত মৌসুমগুলোর মতো পারফরম্যান্স ধরে রাখতে না পারার পর ফোডেন মাঠের বাইরের মানসিক সংগ্রামের কথাও প্রকাশ্যে বলেছিলেন।
সিটির হয়ে ৩৬৯ ম্যাচে ১১০ গোল করা ফোডেন মৌসুমের শেষ দিকে পেপ গার্দিওলার বিদায়ের আগে দলের শেষ ২৬ ম্যাচের মধ্যে মাত্র সাতটিতে শুরুর একাদশে ছিলেন। মৌসুম শেষে গার্দিওলা দায়িত্ব ছাড়ার পর জুনে সাবেক চেলসি কোচ এনজো মারেস্কা সিটির নতুন প্রধান কোচ হিসেবে যোগ দেন।
মারেস্কার সঙ্গে আবার কাজ করার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত ফোডেন। ২০২২–২৩ মৌসুমে সিটির ট্রেবলজয়ী অভিযানের সময় গার্দিওলার কোচিং স্টাফের সদস্য ছিলেন মারেস্কা।
ফোডেন বলেন, “আমি ভীষণ রোমাঞ্চিত। এনজোর সঙ্গে আগে কাজ করেছি। ট্রেবল জয়ের মৌসুমে তিনি আমাদের সঙ্গে ছিলেন এবং অসাধারণ কাজ করেছিলেন।“
তিনি আরও বলেন, “খুঁটিনাটি বিষয়ের প্রতি তার নজর, ছোট ছোট বিষয় যেগুলো বড় পার্থক্য গড়ে দেয়– এসবই তাকে বিশেষ করে তোলে। তার অধীনে অনুশীলন করেই বোঝা যায় তিনি কতটা ভালো কোচ। রক্ষণভাগ থেকে বল গড়ে তুলে খেলা এবং বলের দখল ধরে রাখার যে ফুটবল তিনি খেলাতে চান, তা আমার খেলার ধরনটির সঙ্গে দারুণভাবে মানিয়ে যায়।“