সাতক্ষীরা–৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে উপকূলীয় শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
শ্যামনগর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিউল আলম পাটোয়ারী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রায় এক দশক আগে পরিবারের সঙ্গে সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়ন চৌদ্দরশি গ্রাম ছেড়ে ঢাকা পাড়ি জমিয়েছিলেন মরিয়ম খাতুন। জীবনের শেষ যাত্রায় আবারও সেই গ্রামের মাটিতেই ফিরতে হলো।
ঢাকায় ময়নাতদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে কপোতাক্ষ নদ পেরিয়ে ট্রলারে করে মরিয়মের মরদেহ পৌঁছায় তার গ্রামের বাড়িতে।
মরদেহ পৌঁছানোর পর গাবুরা পশ্চিমপাড়া সরদার বাড়ি জামে মসজিদের পাশে জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় মাদরাসা শিক্ষক মাওলানা নুরুল হুদা জানাজায় ইমামতি করেন। এতে স্বজনদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা, ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা এবং শ্যামনগর থানার এসআই অনিরুদ্ধ রায় ও বদিউজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
মরিয়মের বড় চাচি মুন্নী আক্তার বলেন, মেয়েটি অনেক মেধাবী ছিল। জানি না এটা কেন ঘটেছে। মৃত্যুর রহস্য এখনো জানা যায়নি। ওর সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, তার সুষ্ঠু বিচার চাই। আমাদের মেয়ে খুবই নরম ও ভদ্র ছিল। আমরা সুষ্ঠু বিচার চাই।
মরিয়মের জন্মভূমি চৌদ্দরশি গ্রামে এখন পরিবারের কেউ স্থায়ীভাবে বসবাস করেন না। তবে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও উদ্বেগ দেখা যায়।
এর আগে, রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকায় জাতীয় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলায় এমপি গাজী নজরুল ইসলামের নামে বরাদ্দ করা ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটের একটি কক্ষ থেকে মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরে মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম ও ওবায়দুল্লাহকে আসামি করা হয়েছে।
এসএ