মধ্যপ্রাচ্যে তেলের দাম কমেছে, ঊর্ধ্বগতি শেয়ারবাজার

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা কমে আসায় তেলের দাম আরও কমেছে। এদিকে বিনিয়োগকারীরা এনভিডিয়ার আর্থিক প্রতিবেদন এবং যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় ছিলেন। বুধবার এশিয়ার শেয়ারবাজারে সামান্য ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

চলতি সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের প্রধান দুই ধরনের দামই ৮ শতাংশের বেশি কমেছে। ইরান ও ওমান হরমুজ প্রণালী আংশিকভাবে পুনরায় চালুর বিষয়ে একটি সমঝোতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে—এমন খবরের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নিরসনে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতার ইঙ্গিত বাজারে আশাবাদ তৈরি করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরান ও দেশটির বাণিজ্যিক অংশীদারদের বিরুদ্ধে হোয়াইট হাউসের পদক্ষেপকে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ হিসেবে ঘোষণা করলেও বাজারে ধারণা করা হচ্ছে, এসব পদক্ষেপ আশঙ্কার তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম কঠোর।

বিএনজির জেসন ওয়ং বলেন, ‘এই পদক্ষেপের কারণে বাজারে এমন ধারণা তৈরি হতে পারে যে, ইরানের অবশিষ্ট আর্থিক সক্ষমতার পথগুলো বন্ধ করার লক্ষ্যে নেওয়া সর্বশেষ মার্কিন কৌশল ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ ইরানকে আবারও আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে পারে এবং সংঘাত নিরসনের পথ তৈরি হতে পারে।

এদিকে, পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীরা সোমবার ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনার পর ইতিবাচক অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন।

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি বৈঠকটিকে ‘খুবই ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ’ বলে উল্লেখ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি জানান, এই অগ্রগতি অঞ্চলে আরও আলোচনা এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ তৈরি করতে সহায়তা করবে বলে তিনি মনে করেন।

বুধবার অপরিশোধিত তেলের দাম ২ শতাংশের বেশি কমেছে। প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৯০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে।

এর ফলে পুঁজিবাজারে চাপ কিছুটা কমেছে। গত সপ্তাহে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদহার ২০০৭ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠে। এর ঠিক পরের বছরই বিশ্বব্যাপী আর্থিক সংকট শুরু হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রে ঋণ নেওয়ার ব্যয় কমে আসা এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা শেয়ারবাজারকে স্বস্তি দিয়েছে।

বুধবার টোকিও, হংকং, সাংহাই, সিডনি, সিউল, ওয়েলিংটন ও তাইপের শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী ছিল। তবে সিঙ্গাপুর ও ম্যানিলার বাজারে দরপতন হয়েছে।

তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার চলমান বাণিজ্য বিরোধ বাজারে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। এ সপ্তাহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হচ্ছে বুধবার প্রকাশিত হতে যাওয়া প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন।

চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া এখন ত্রৈমাসিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের মৌসুমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক হয়ে উঠেছে। কারণ, গত দুই বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের ব্যাপক প্রবৃদ্ধি শেয়ারবাজারকে রেকর্ড উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার পর, বিনিয়োগকারীরা এনভিডিয়ার প্রতিবেদন দেখে এআই খাতের এই উত্থান কতটা শক্তিশালী ও টেকসই, তা বোঝার চেষ্টা করছেন।

তবে এআই সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যারে বিপুল অর্থ বিনিয়োগের পর তা কবে উল্লেখযোগ্য মুনাফায় পরিণত হবে—আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগও বাড়ছে।

আইজি’র বাজার বিশ্লেষক অ্যাক্সেল রুডলফ বলেন, ‘এনভিডিয়ার দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদনের চেয়ে আগামী প্রান্তিক নিয়ে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা কী পূর্বাভাস দেয়, সেটিই সম্ভবত বিনিয়োগকারীদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হবে পারে।

এদিকে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত ভোগব্যয় মূল্যসূচকের তথ্য প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে। মূল্যস্ফীতি পরিমাপের ক্ষেত্রে এটি মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের পছন্দের সূচকগুলোর একটি। সুদের হার নিয়ে নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্তে এর প্রভাব পড়তে পারে।

মূল্যস্ফীতির হার প্রত্যাশার চেয়ে কম হলে সুদের হার বাড়ানোর আশঙ্কা কমতে পারে। তবে মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হলে ঋণের সুদহার বাড়ানোর সম্ভাবনা আরও জোরালো হতে পারে।

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More