বুধবার, এপ্রিল ২২, ২০২৬
বুধবার, এপ্রিল ২২, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে বাংলাদেশের কূটনীতি ও নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্বারোপ বিশিষ্টজনদের

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থান, জাতীয় নিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্ব আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশিষ্টজনরা। তাদের মতে, জনগণের ঐক্য, সমর্থন এবং জাতীয় স্বার্থই একটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শক্তি, যা কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও দৃঢ় করতে সহায়তা করে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাজধানীর গুলশানে ফাউন্ডেশন ফর স্ট্র্যাটেজিক এন্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (এফএসডিএস) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব মতামত উঠে আসে।

বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে ইরানের টিকে থাকা: অসম সহনশীলতা, আঞ্চলিক পুনর্গঠন এবং বৈশ্বিক বিপর্যয়ের যুক্তি’ শীর্ষক এই আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ফজলে এলাহী আকবর এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন এফএসডিএসএর প্রিন্সিপাল রিসার্চ ফেলো ও সেক্রেটারি জেনারেল ড. ইশারফ হোসেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. শাফায়াত আহমেদ।

আলোচনায় আরও অংশ নেন সাবেক রাষ্ট্রদূত নাসিম ফেরদৌস, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইইসিস) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আ স ম রিদওয়ানুর রহমান, এবং দ্য নিউ নেশন সাবেক সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদারসহ বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞরা।

বক্তারা বলেন, সফল কূটনীতি বাস্তবায়নের জন্য সার্বভৌম স্বায়ত্তশাসনের কার্যকর প্রয়োগ অপরিহার্য। জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ় ও স্বাধীন অবস্থান গ্রহণই একটি শক্তিশালী পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করেন, বর্তমান বিশ্বে অরাষ্ট্রীয় শক্তির উত্থান নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে, যা মোকাবিলায় কৌশলগত পরিকল্পনা প্রয়োজন।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা—বিশেষ করে ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে—বাংলাদেশকে সতর্ক ও ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানান বক্তারা।

তারা বলেন, বৈশ্বিক ভূরাজনীতির জটিল বাস্তবতায় শুধুমাত্র জনমতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া যথেষ্ট নয়; বরং রাষ্ট্রীয় স্বার্থ ও বাস্তবতা বিবেচনা করতে হবে।

আলোচনায় সংঘাতকে ভূরাজনীতি, ভূঅর্থনীতি এবং সভ্যতার সংঘাত—এই তিনটি দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করা হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় দৃঢ়তা ও জনঐক্যের উদাহরণ তুলে ধরে বক্তারা বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও একটি জাতির টিকে থাকার শক্তি আসে ঐক্য, দেশপ্রেম এবং নৈতিক শক্তি থেকে।

এছাড়া মালদ্বীপের সাম্প্রতিক সংসদীয় সিদ্ধান্তের উদাহরণ টেনে তারা বলেন, সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণ একটি রাষ্ট্রের স্বাধীন অবস্থানের প্রতিফলন।

দেশের আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর সীমাবদ্ধতার সমালোচনা করে বক্তারা বলেন, দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনার অভাব এবং নীতিনির্ধারণে স্বাধীন মতপ্রকাশের ঘাটতি বাংলাদেশের কূটনৈতিক দুর্বলতার অন্যতম কারণ। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা থেকেও বের হয়ে আসার প্রয়োজনীয়তার কথা তারা উল্লেখ করেন।

তারা আরও বলেন, পররাষ্ট্রনীতিকে রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে রেখে একটি শক্তিশালী, কার্যকর ও দূরদর্শী কূটনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি। এ প্রসঙ্গে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বৈদেশিক নীতির দৃষ্টান্ত তুলে ধরে বক্তারা বলেন, জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতি আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

সবশেষে বক্তারা জাতীয় ঐক্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিনির্ধারণ এবং বাস্তবভিত্তিক কৌশল গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More