বান্দরবানে বিষাক্ত বর্জ্যে ধ্বংস হচ্ছে পরিবেশ, ডাম্পিং স্টেশনের দাবি

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক
বান্দরবানে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে এবং পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

আগামী ২৮ জুলাই বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবস। প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ, উদ্ভিদ ও প্রাণীজগতের সুরক্ষা এবং জীববৈচিত্র্য হ্রাস ও দূষণের মতো পরিবেশগত হুমকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে দিনটি পালিত হয়। বাংলাদেশের প্রাণপ্রকৃতি নিয়ে দীপ্ত সংবাদের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের অংশ হিসেবে এই পর্বে তুলে ধরা হচ্ছে পার্বত্য জেলা বান্দরবানের চিত্র।

বান্দরবানে যত্রতত্র ময়লাআবর্জনা ফেলার কারণে জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে এবং পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। অপরিকল্পিত ও অস্থায়ী ডাম্পিং স্টেশনে উন্মুক্তভাবে ময়লাআবর্জনা ফেলার কারণে বৃষ্টির পানির সাথে বর্জ্য ছড়িয়ে পড়ছে স্থানীয় ঝিরি, নদী ও কৃষিজমিতে। এতে প্লাস্টিক, হাসপাতালের ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, ইনজেকশনের সুচ এবং স্যালাইনের ব্যাগসহ অন্যান্য বিপজ্জনক বর্জ্য মিশে যাওয়ায় কৃষকরা জমিতে নেমে চাষাবাদ করতে পারছেন না। দুর্গন্ধ ও চরম দূষণের কারণে স্থানীয় মানুষের সুপেয় ও নিত্যব্যবহার্য পানির একমাত্র উৎস ঝিরিগুলোও এখন সম্পূর্ণ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

বর্জ্য দূষণের ভয়াবহতা নিয়ে ক্ষোভ ও আতঙ্ক প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। এক কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, “এই যে সুই (সিরিঞ্জ) সহ ফার্মেসির যত বিষাক্ত ওষুধের দ্রব্যাদি, ব্লেড বা ছুরি রয়েছে—সেগুলো ময়লার সাথে এখানে ডুবে আছে। জমিতে নামতে গেলে চরম আতঙ্কে থাকতে হয়, কখন যেন বড় দুর্ঘটনা ঘটে যায়! কর্তৃপক্ষের খেয়াল রাখা উচিত ছিল যাতে পার্শ্ববর্তী ধানের জমির ক্ষতি না হয়।

আরেক ভুক্তভোগী দুর্গন্ধ ও যাতায়াতের কষ্টের কথা তুলে ধরে বলেন, “আসাযাওয়ার পথে দেখা যায় রাস্তার উপরে পৌরসভার ময়লাগুলো ফেলা হচ্ছে, যা গড়িয়ে একদম নদীতে চলে যায়। ওদিকে ছোট ছোট ঝিরিতে মানুষ বাচ্চাদের নিয়ে গোসল করে। দুর্গন্ধের কারণে স্কুলে, মাদ্রাসায় যাতায়াত করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই দুর্গন্ধ পুরো বান্দরবান শহরে ছড়িয়ে পড়ছে

বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করেছেন বান্দরবার পৌরসভার বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থাপক ও পরিদর্শক দিদারুল হক চৌধুরী।

তিনি জানান, এবার বৃষ্টির কারণে যে পরিমাণ বর্জ্য ছড়িয়ে পড়েছে তা সত্যি চাষাবাদের অনুপযোগী পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তবে পৌরসভার সীমানার বাইরে গিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে তাদের হাতপা বাঁধা।

দিদারুল হক চৌধুরী বলেন, “কর্মচারী হিসেবে প্রথমত আমি পৌরসভার বাইরে যেতে পারি না, আর গেলেও আমার করার কিছু থাকে না। কারণ আমার কাজ সীমাবদ্ধ; জনগণ যে প্রাত্যহিক ময়লা তৈরি করে, তা অপসারণ করাই আমার দায়িত্ব

 

 

বর্তমানে প্লাস্টিক ও হাসপাতালের ধারালো বর্জ্যের ভয়ে কৃষকরা মাঠে নামতে পারছেন না, ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে কৃষি কার্যক্রম। এই বিপর্যয়কর পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে বান্দরবানবাসী অবিলম্বে একটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে বর্জ্য দূষণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জমি দ্রুত সংস্কার করে পুনরায় চাষাবাদের উপযোগী করা এবং তাদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

মাসউদ/এসএ

 

 

 

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More