বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জর্ডানের বিপক্ষে ৩–১ গোলের জয় তুলে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। এই জয়ের মাধ্যমে শতভাগ জয়ের রেকর্ড নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিল লিওনেল স্কালোনির দল। জয়ের দিনে নতুন এক ইতিহাস গড়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। তিনি ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা সাত ম্যাচে গোল করার অনন্য নজির স্থাপন করেছেন।
ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখলের লড়াইয়ে নিরঙ্কুশ আধিপত্য দেখায় আর্জেন্টিনা। জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচের প্রথমার্ধে প্রায় ৯০ শতাংশ বল দখলে রেখেছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। গোল পেতে খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি আর্জেন্টিনাকে। ম্যাচের ১৯তম মিনিটে ডি–বক্সের ঠিক বাইরে থেকে পাওয়া ফ্রি–কিক থেকে দুর্দান্ত গোল করে দলকে এগিয়ে দেন জিওভানি লো সেলসো। মেসির অনুপস্থিতিতে দলের হয়ে তার এই গোলটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এর ঠিক কিছু সময় পর, ৩০তম মিনিটে মার্কোস সেনেসি ডি–বক্সে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। সেই পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান ২–০ করেন লাউতারো মার্তিনেজ।
বিরতির পর খেলার মোড় কিছুটা ঘুরে যায়। ম্যাচের ৫৫তম মিনিটে জর্ডানের মুসা আল–তামারি পাল্টা আক্রমণ থেকে গোল করে ব্যবধান কমিয়ে ২–১ করেন। গোল খাওয়ার পর আর্জেন্টাইন রক্ষণভাগের কিছুটা নড়বড়ে অবস্থা দেখা দেয়। দলের এই সংকটময় মুহূর্তে ৬০তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন লিওনেল মেসি।
মাঠে নেমেই নিজের জাত চেনান মেসি। ম্যাচের শেষের দিকে পাওয়া ফ্রি–কিক থেকে অসাধারণ এক গোল করে আর্জেন্টিনাকে ৩–১ ব্যবধানের জয় এনে দেন এই ফুটবল জাদুকর। এই গোলের মাধ্যমেই তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসে টানা সাত ম্যাচে গোল করার রেকর্ড গড়েন। এছাড়াও, এই ম্যাচে আরও একটি বিরল কৃতিত্ব অর্জন করে আর্জেন্টিনা—২০১০ সালের জাপানের পর প্রথম দল হিসেবে এক ম্যাচে দুটি ফ্রি–কিক থেকে গোল করার নজির গড়ে তারা।
গ্রুপ পর্বের এই জয়ের ফলে অপরাজিত থেকেই নকআউট পর্বে পা রাখল আর্জেন্টিনা। পরবর্তী রাউন্ডে মায়ামিতে কেপ ভার্দের মুখোমুখি হবে স্কালোনির শিষ্যরা।