শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
UPCOMING

FIXTURES

FIFA 2026 NEXT MATCH
MATCH -- ROUND -
- - -
VS
- - -
KICK OFF:
Processing...
শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বর্তমান সরকার জনগণের সরকার, জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সরকার : প্রধানমন্ত্রী

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই, বর্তমান সরকার জনগণের সরকার, জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সরকার। আমরা জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করি, আমরা জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান করি। জনগণের জীবন ও সম্পদ সুরক্ষা সরকারের পবিত্র আমানত বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’

বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে সমাপনীতে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের এই অবস্থানের কথা জানান।

রাষ্ট্র ও সরকার জনগনের কাছে জবাবদিহি থাকবে এমন বাংলোদেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই যেখানে রাষ্ট্র এবং সরকার হবে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক,অর্থনীতি হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সর্বোপরি নাগরিকের জীবন হবে নিরাপদ মর্যাদাপূর্ণ এবং সম্ভাবনাময়।’

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে সদ্য পাস হওয়া বাজেটকে ‘জীবনবান্ধব ও জনবান্ধব’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, বাজেট পেশের পর বিভিন্ন স্বাধীন ও চুলচেরা বিশ্লেষণকারী সংস্থাও স্বীকার করেছে যে এই বাজেটটি অনেকটাই জনবান্ধব হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এই বাজেটের সুফল যদি দেশের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হয়, তবে সরকারি প্রশাসন, বেসরকারি কর্তৃপক্ষসহ সমাজের প্রতিটি শ্রেণীপেশার মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। আমি সংসদের সকল সদস্য এবং দেশের গণতন্ত্রমনা জনগণকে ধন্যবাদ জানাই, কারণ সবার প্রচেষ্টায় এই সংসদ আজ জনগণের কাঙ্ক্ষিত সংসদে পরিণত হয়েছে।’

বর্তমান সরকার কোনভাবেই কোন প্রকার চরমপন্থা বা উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা যেভাবে সরকারি দল এবং বিরোধী দল এই সংসদে কোন কোন বিষয় হয়ত দ্বিমত করেছি কিন্তু একই সাথে অনেক বিষয় আমরা একমতও পোষণ করেছি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে উগ্রবাদ ও চরমপন্থাকে বর্তমান সরকার প্রশ্রয় দেবে না। আশা করি, এ ব্যাপারে আমরা সম্পূর্ণভাবে বিরোধী দলের সহযোগিতা পাব ইনশাআল্লাহ।’

কৃষক ও সাধারণ মানুষের কল্যাণে সরকারের নেওয়া তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে দেশের ১৩ লাখ প্রান্তিক কৃষক সরাসরি উপকৃত হয়েছেন।’

তিনি আরও জানান, ‘সমাজকে একটি কল্যাণ রাষ্ট্রে রূপান্তর করতে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড এবং ইমামমুয়াজ্জিন ও ধর্মগুরুদের সম্মানী প্রদানের কাজ শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে এই সমস্ত সেবা একটি মাত্র কার্ডের আওতায় নিয়ে এসে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালু করা হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে দেশকে একটি বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর করা। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন (এক লাখ কোটি) ডলারের অর্থনীতির কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

আগামী ৫ বছরে দেশের সরকারি ও স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ বা সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কাজ শুরু করেছি।

আমি সকালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাচ্চাদের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলাম। আজকেই সবার সঙ্গে কথা বলে দুই লাখ চারা রোপণ করেছি। প্রতিবছর পাঁচ কোটি বৃক্ষরোপণ করতে চাই। ১০ হাজার নার্সারি গড়ে তোলা হবে, এতে আড়াই লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।’

দুর্নীতি দমন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বৈরাচারের আমলে প্রতি বছর দেশ থেকে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার করা হয়েছে, যার কারণে দেশের অর্থনীতি আজ সংকটে। বর্তমান সরকার যেকোনো মূল্যে দুর্নীতি দমন করতে এবং পাচার হওয়া অর্থ নিয়ন্ত্রণে বদ্ধপরিকর।’

জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সম্পূর্ণ পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এরই অংশ হিসেবে ১০ হাজার নতুন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। ‘

তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনের আগে দেশের সব রাজনৈতিক দল যে ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর করেছিল এবং বিএনপির ঘোষিত যে ‘৩১ দফা’ রূপরেখা রয়েছে, সেটি এখন আর কোনো একক দলের নয়, বরং সেটি দেশের সাধারণ মানুষের ৩১ দফায় পরিণত হয়েছে। জুলাই সনদের প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে সরকার জনগণের কাছে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বিকাল ৫টায় এই অধিবেশন শুরু হয়। গত ৭ জুন সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। আইন প্রণয়ন কার্যালবলী শেষ করে আসরের নামাজের বিরতির পরে সংসদ অধিবেশন সমাপ্তির রাষ্ট্রপতির আদেশ আসার কথা জানান ডেপুটি স্পিকার।

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More