উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক
দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।

দেশের উত্তর, উত্তরপূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণপূর্বাঞ্চলে গত ২৪ ঘণ্টায় অব্যাহত ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণে নদনদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এর প্রভাবে সুরমা, কুশিয়ারা ও সোমেশ্বরী নদীর পানি দেশের তিনটি জেলার মোট চারটি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সেমবার (২০ জুলাই) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সকাল ৯টার বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বুলেটিন অনুযায়ী, বর্তমানে সুরমা নদীর ছাতক (সুনামগঞ্জ) পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার ওপরে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) পয়েন্টে ৩০ সেন্টিমিটার এবং মারকুলি (সুনামগঞ্জ) পয়েন্টে ৩ সেন্টিমিটার এবং সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা (নেত্রকোণা) পয়েন্টে ১৫ সেন্টিমিটার ওপরে পানি বইছে। এসব অঞ্চলের নিম্নাঞ্চলে ইতোমধ্যে পানি ঢুকে পড়ে মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে।

এদিকে নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোয় বেশ কিছু পয়েন্টে সতর্কাবস্থা জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সুরমা নদীর সুনামগঞ্জ স্টেশন, কুশিয়ারা নদীর শেরপুর (সিলেট) স্টেশন, দুধকুমার নদীর পাটেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) স্টেশন এবং তিস্তা নদীর ডালিয়া (নীলফামারী), কাউনিয়া (রংপুর), তারাপুর (গাইবান্ধা) ও হরিপুর (গাইবান্ধা) পয়েন্ট।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পর্যবেক্ষণাধীন মোট ১২৭টি পানি সমতল স্টেশনের মধ্যে ৭৮টিতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, ৪৭টিতে হ্রাস পেয়েছে এবং ২টি স্টেশনের পানি অপরিবর্তিত রয়েছে। নদনদীর এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পাহাড়ি ঢল ও অতি বৃষ্টির কারণে আরও বিস্তার লাভ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বিশেষ করে উত্তর ও উত্তরপূর্বাঞ্চলে বৃষ্টির তীব্রতা ছিল সবচেয়ে বেশি। এ সময়ে দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে সুনামগঞ্জের মহেশখোলায়, যার পরিমাণ ২০৩ মিলিমিটার।

এছাড়া লরেরগড়ে ১৪০ মিলিমিটার, জাফলংয়ে ১১৪ মিলিমিটার এবং সুনামগঞ্জে ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি পঞ্চগড়ে ৯১ মিলিমিটার, বসুরহাটে (নোয়াখালী) ৮৫ মিলিমিটার, টেকনাফে (কক্সবাজার) ৭৯ মিলিমিটার, রংপুরে ৬১ মিলিমিটার, সিলেটে ৬০ মিলিমিটার, ডালিয়ায় (নীলফামারী) ৫৫ মিলিমিটার, খুলনায় ৫১ মিলিমিটার, কক্সবাজারে ৫১ মিলিমিটার এবং পাটেশ্বরীতে (কুড়িগ্রাম) ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More