আগামী ২৮ জুলাই বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবস। প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ, উদ্ভিদ ও প্রাণীজগতের সুরক্ষা এবং জীববৈচিত্র্য হ্রাস ও দূষণের মতো পরিবেশগত হুমকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে দিনটি পালিত হয়। পরিবেশ সুরক্ষায় সচেতনতা তৈরিতে বাংলাদেশের প্রাণ–প্রকৃতি নিয়ে দীপ্ত টিভির ধারাবাহিক প্রতিবেদনের এই পর্বে থাকছে অবাধে বনভূমি দখল ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল সংকট নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন।
দেশে উন্নয়নের নামে সংরক্ষিত বনের ভেতর দিয়ে তৈরি হচ্ছে পাকা সড়ক। এতে হুমকির মুখে পড়েছে শতবর্ষী প্রাচীন গাছ, বন্যপ্রাণীর বিচরণ কেন্দ্র এবং প্রাকৃতিক আবাসস্থল। সম্প্রতি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার সংরক্ষিত বনের ভেতর দিয়ে পাকা সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
একসময় চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার পুরামগড় ইউনিয়নের বৈতরণী এলাকায় বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল ছিল বন্য প্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বনভূমি দখল ও অব্যবস্থাপনার কারণে সেই বন বর্তমানে বিলুপ্তির পথে। বনাঞ্চলের ভেতর দিয়ে সড়ক নির্মাণ নিয়ে বন বিভাগ আপত্তি জানালেও বন্ধ হয়নি এর প্রক্রিয়া।
এ বিষয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বনের ভেতর দিয়ে সড়ক হলে সেখানে বনভূমি দখল, অবৈধ অনুপ্রবেশ, গাছ কাটা ও বনসম্পদ পাচারের ঝুঁকি বহুলাংশে বেড়ে যাবে।
বনসংরক্ষক (চট্টগ্রাম অঞ্চল) মিহির কুমার দো বলেন, যদি সংরক্ষিত বনের মধ্য দিয়ে রাস্তা তৈরি হলে মানুষের চলাচল বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন করে ঘরবাড়ি তৈরির প্রবণতা দেখা দেবে, যা বনের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ ব্যাহত করবে।
এদিকে, কক্সবাজার জেলার চকরিয়ায় গর্জন বনের ভেতরে হাতি চলাচলের পথেই পাকা সড়ক তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। সংরক্ষিত ওই বনাঞ্চলে সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে বন বিভাগকেও কিছু জানানো হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
বনের নির্জন পথে এখনো স্পষ্ট ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এশীয় হাতির পায়ের ছাপ ও সংকেত। স্থানীয়দের সাথে হাতির সহাবস্থান দীর্ঘদিনের হলেও পাকা সড়ক নির্মিত হলে যানবাহনের চলাচলে ব্যাহত হবে তাদের স্বাভাবিক চলাচল।
এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “আমরা ছোট বাচ্চাদের নিয়ে এই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছি। হাতি কখনো আমাদের কোনো ক্ষতি করেনি; শুধু ধান পাকলে কিছুটা ক্ষতি করে, তা ছাড়া কোনো ঝামেলা করে না।“
কক্সবাজার উত্তর বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মারুফ হোসেন জানান, বনের প্রাকৃতিক অখণ্ডতা রক্ষা ও হাতির নির্বিঘ্ন চলাচলের স্বার্থে বনের ভেতরে এই সড়ক নির্মাণের অনুমতি দেবে না বন বিভাগ।
কক্সবাজারের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গারা আশ্রয় নিলে এশীয় হাতির দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করিডোর চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়। পাশাপাশি জঙ্গলে হাতিকে গুলি করে হত্যার ঘটনাও ঘটছে আশঙ্কাজনক হারে। বন অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০১৬ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এক দশকে কক্সবাজারে গুলিতে প্রাণ হারিয়েছে কমপক্ষে ৯টি হাতি।
পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বনের মাঝ দিয়ে সড়ক নির্মিত হলে মানুষ ও হাতির সংঘাত চূড়ান্ত রূপ নেবে।
মাসউদ/এসএ