অপুষ্টি মোকাবেলায় দেশের স্বাস্থ্য, জলবায়ু ও উন্নয়ন কর্মসূচির কেন্দ্রে পুষ্টিকে স্থান দেওয়ার এবং বহু–খাতভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) ‘স্বাস্থ্য ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ: ম্যালেরিয়া, যক্ষ্মা এবং জলবায়ু ও অন্যান্য সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে পুষ্টির ভূমিকা” শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এ আহ্বান জানান তারা।
জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে এ আলোচনার আয়োজন করে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান (আইপিএইচএন), দৈনিক সমকাল এবং ম্যাক্স ফাউন্ডেশন।
প্রসঙ্গত, ২৩ থেকে আগামী ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত পালিত হচ্ছে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ।
গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথি বক্তব্যে বাংলাদেশ জাতীয় পুষ্টি পরিষদ মহাপরিচালক ডা. মো. রিজওয়ানুর রহমান বলেন, পুষ্টি পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সত্ত্বেও অপুষ্টি একটি গুরুতর সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে এবং শিশুদের একটি বড় অংশ এখনও খর্বাকৃতির সমস্যায় ভুগছে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে আলোচনায় অংশ নেন আইপিএইচএন পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী এবং উপ–পরিচালক ডা. রওশন জাহান আখতার আলো।
আলোচনায় বিশ্ব ব্যাংক ও ইউনিসেফ সাবেক কর্মী পরামর্শক ড. এএফএম ইকবাল কবির মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
আইপিএইচএন পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী বলেন, দেশের স্বাস্থ্য, জলবায়ু ও উন্নয়ন কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দুতে পুষ্টিকে রাখতে হবে। জাতীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পুষ্টি–সম্পর্কিত কমিটিগুলোকে সক্রিয় করার ওপর জোর দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মূল অংশীজনদের নিয়ে গঠিত এই কমিটিগুলো যদি সঠিকভাবে কাজ করত, তাহলে দেশের পুষ্টি পরিস্থিতি আরও অনেক উন্নতি হতো।
ডা. রওশন জাহান আখতার আলো পুষ্টি কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য তৃণমূল পর্যায়ে, বিশেষ করে ‘সুপ্রশিক্ষিত দক্ষ জনবলের’ অভাবের বিষয়টি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “দক্ষ জনবলের অভাব পুষ্টি কার্যক্রমগুলোকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে। কিছু জেলা পর্যায়ের হাসপাতালের পুষ্টি কর্নারে মাত্র একজন কাজ করেন।”
মূল বক্তব্য প্রদানকালে এএফএম ইকবাল কবির জোর দিয়ে বলেন, পুষ্টি কোনও বিচ্ছিন্ন খাত নয়, বরং এটি নানা খাত ও ব্যবস্থাসংশ্লিষ্ট একটি সমাধান।
তিনি বলেন, অপুষ্টি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে, যক্ষ্মা, এইচআইভি ও ম্যালেরিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি বাড়ায় এবং সংক্রমণ পুষ্টি পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তোলে।
ম্যাক্স ফাউন্ডেশন কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. তারিকুল ইসলাম বলেন, অপুষ্টি মোকাবেলায় বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করতে হবে কারণ দাতারা যখন সাহায্য থেকে বাণিজ্য–ভিত্তিক কৌশলে যাচ্ছে তখন বাংলাদেশ তার পুষ্টি কর্মসূচির জন্য অনুদানের উপর নির্ভর করতে পারবে না।
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জন করবে এবং আমাদের উচিত বেসরকারি খাতের মানসম্পন্ন পুষ্টি পণ্য ও সেবার জন্য নিয়ন্ত্রণ কাঠামো তৈরি করা এবং কার্যকর সাশ্রয়ী মূল্যের বাজার–ভিত্তিক সমাধান বের করা।
গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দৈনিক সমকালের সম্পাদক শাহেদ মোহাম্মদ আলী এবং সঞ্চালনা করেন সহযোগী সম্পাদক শেখ রোকন।
আইসিডিডিআর,বি–এর পুষ্টি ও গবেষণা বিভাগের বিজ্ঞানী ডা. মো. মুনীরুল ইসলাম, কোওয়াটার ইন্টারন্যাশনালের যোগাযোগ উপদেষ্টা বেলাল উদ্দিন, নিউট্রিশন ইন্টারন্যাশনাল কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. এ কে এম মুসা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট সহযোগী অধ্যাপক ড. আলী আব্বাস মো. খোরশেদ, ইউনিসেফ বাংলাদেশের পুষ্টি বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ আজিজ খান, কেয়ার বাংলাদেশের পুষ্টি টিম লিডার মোহাম্মদ হাফিজুল ইসলাম, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথ উপ–পরিচালক (শিক্ষা ও গবেষণা) ড. সানথিয়া আইরিন, গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন (গেইন) প্রজেক্ট ম্যানেজার মো. আবুল বাশার চৌধুরী, হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনালের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য বিভাগ প্রধান ডা. আফসানা হাবিব শিউলি, ম্যাক্স ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. মিথুন গুপ্তা, ব্র্যাকের হেড অব ফান্ড সেক্রেটারিয়েট (ক্লাইমেট ব্রিজ ফান্ড) সাইকা সিরাজ এবং বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম সভাপতি প্রতীক ইজাজও আলোচনায় বক্তব্য রাখেন।
মাসুদ/এসএ