প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে নতুন সাজে সেজেছে সুনামগঞ্জ জেলার হাওরাঞ্চল। নতুন পানিতে ভরে ওঠা হাওর, মেঘালয়ের সবুজ পাহাড়, জাদুকাটা নদীর স্বচ্ছ জলরাশি আর খোলা আকাশের মায়াবী পরিবেশ উপভোগ করতে ইতোমধ্যে সুনামগঞ্জে ভিড় করতে শুরু করেছেন পর্যটকরা।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা সামনে রেখে পর্যটকদের আগমন আরও বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঈদ মৌসুম কেন্দ্র করে হাওরাঞ্চলে হাউজবোটগুলো প্রস্তুত হয়ে উঠেছে। সংস্কার, রেনোভেশন এবং উন্নত সেবার প্রস্তুতি শেষ করে পর্যটকদের বরণে অপেক্ষায় রয়েছেন হাউজবোট মালিক ও কর্মীরা।
‘পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা‘ সাহেলা বলেন, নদীমাতৃক দেশের মানুষ হিসেবে নদীতে ঘুরতে আমাদের খুব ভালো লাগে। বিশেষ করে জাদুকাটা নদীর খোলা আকাশ, পাহাড় আর স্বচ্ছ জলরাশি মিলে অন্যরকম অনুভূতি তৈরি করছে। সুযোগ পেলেই পরিবার নিয়ে ঘুরতে বের হই, আর সুনামগঞ্জ সবসময়ই পছন্দের তালিকায় থাকে।
বরিশাল থেকে আসা এক নবদম্পতি বলেন, সবকিছু মিলিয়ে খুব সুন্দর সময় কাটছে। বিশেষ করে জীবনসঙ্গীর সঙ্গে এই ভ্রমণ আরও আনন্দঘন হয়ে উঠেছে।
পর্যটক আদনান বলেন, গতকাল থেকে হাউজবোটে ঘুরছি, সময়টা খুব ভালো কাটছে। তবে ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জ আসতে দীর্ঘ যানজটে পড়তে হয়েছে। রাস্তাঘাটের অবস্থা ভালো হলে ভ্রমণ আরও স্বস্তিদায়ক হতো।
‘হৈমন্তী হাউজবোট‘ ম্যানেজার রোকন উদ্দিন বলেন, ঈদ সামনে রেখে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। ইতোমধ্যে কয়েকটি ট্রিপ সম্পন্ন হয়েছে। এখন হাওরে নতুন পানি এসেছে, তাই পর্যটকরা দারুণ সময় উপভোগ করতে পারবেন।
হাউজবোট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি মো.আরাফাত হোসেন বলেন, প্রত্যেকটি হাউজবোট রেনোভেশন করা হয়েছে। কিন্তু ঢাকা–সিলেট মহাসড়কে বেহাল অবস্থা আমাদের দুশ্চিন্তার কারণ। বর্তমানে আমাদের অ্যাসোসিয়েশনের ১০৬টি হাউজবোটসহ জেলায় প্রায় ২ শতাধিক উপরে হাউজবোট প্রস্তুত রয়েছে।
এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপর রয়েছে জেলা পুলিশ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সুজন সরকার বলেন, সুনামগঞ্জ জেলার টাঙ্গুয়ার হাওর, নীলাদ্রি লেকসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটে ঈদ ছুটিতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশি টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
জাকারিয়া/এসএ