আজ বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হয়েছে পবিত্র রমজান মাস। তবে রোজাদারদের জন্য রাজধানীর বাজারগুলোতে স্বস্তির খবর নেই। ইফতার ও সেহরির প্রয়োজনীয় প্রায় প্রতিটি পণ্যের দাম গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল বাজার, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার, আগারগাঁও তালতলা ও শেওড়াপাড়াসহ বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ইফতারের শরবতে ব্যবহৃত লেবুর দাম গত দুই সপ্তাহে দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। আগে যে মাঝারি আকারের লেবু ২০–৪০ টাকায় পাওয়া যেত, তা এখন ৬০ টাকার নিচে মিলছে না। বিক্রেতারা বলছেন, মৌসুম শেষ হওয়ায় সরবরাহ কম এবং চাহিদা বেশি থাকায় দাম বেড়েছে। গত বছর রোজার আগে এক হালি লেবুর দাম ছিল ৪০–৫০ টাকা, যা এবার ১২০ টাকা পর্যন্ত ঠেকেছে।
শুধু লেবু নয়, ইফতারি তৈরির প্রধান উপকরণ বেগুন ও শসার দামও কেজিতে ২০ টাকা করে বেড়েছে। প্রতি কেজি বেগুন এখন ৮০–১২০ টাকা এবং শসা ৮০–১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া টমেটো ও গাজরের দামও কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। নিত্যপণ্যের বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০–১৫ টাকা বেড়ে ৫৫–৬০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ১৪০–১৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। সবজি বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারি আড়তে দাম বাড়ায় খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়েছে।
আমিষের বাজারেও নিম্ন ও মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস দশা। দুই সপ্তাহ আগে ১৬০–১৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া ব্রয়লার মুরগি এখন ২০০–২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কেজিতে ৩০–৪০ টাকা বেড়ে সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩২০–৩৫০ টাকায়। খামারি ও বিক্রেতারা মুরগির বাচ্চার দাম বৃদ্ধি এবং শীতে মুরগির মড়ককে এই মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে দেখাচ্ছেন। মাছের বাজারেও তেলাপিয়া, পাঙাশ, রুই ও কাতল মাছের দাম কেজিতে ২০–৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। মাঝারি আকারের রুই মাছ এখন ৪০০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। দেশি ফলের মধ্যে কলার দাম ডজনে ৩০–৬০ টাকা এবং পেঁপে ও পেয়ারার দাম কেজিতে ১০–৩০ টাকা বেড়েছে।
সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, রোজার শুরুতে এভাবে প্রতিটি জিনিসের দাম বেড়ে যাওয়া অস্বাভাবিক ও অত্যন্ত কষ্টকর। তবে ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, রোজার প্রথম সপ্তাহ পার হলে চাহিদ কমলে দাম কিছুটা কমে আসতে পারে।