নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬–এ হ্যাটট্রিক মিশন পূর্ণ করতে পারল না বাংলাদেশ। গত দুই আসরের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ এবার সন্তুষ্ট থাকল রানার্স–আপ ট্রফি নিয়েই ।
শনিবার (৬ জুন) জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে বাংলাদেশকে ৩–১ গোলে হারিয়ে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা পুনরুদ্ধার করল ভারত।
ট্রফি নির্ধারণী ম্যাচে একাদশে দুটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে বাংলাদেশ। ম্যাচের শুরুটা বেশ সতর্ক এবং রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলে টাইগ্রেসরা। তবে এরপরই ১২ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যেদুটো ভালো সুযোগ মিস করে লাল–সবুজের প্রতিনিধিরা।
১৬ মিনিটে গোলের সুযোগ নষ্ট করে ভারতও। নির্মলা দেবীর শট মিলি আক্তার এগিয়ে এসে ধরতে চাইলেও হাতে নিতে পারেননি।
প্রথম ৪০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর পরের পাঁচ মিনিটে আসে দুই গোল। ৪২ মিনিটে প্রথম গোলটা করেন ভারতের পেয়ারি জাজা। গোল পেয়ে অবশ্য কয়েক মুহূর্ত স্বস্তিতে ছিল ভারত। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে বাংলাদেশকে সমতায় ফেরান ঋতুপর্ণা চাকমা।
বিরতির পর মাঠে ফিরেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর মাত্র ৪৮ সেকেন্ডের মাথায় গোল হজম করে বসে বাঘিনীরা। ভারতের পেয়ারি জাজার বাড়ানো চমৎকার ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে দুর্দান্ত এক হেডে বল জালে পাঠান সানফিদা।
এরপর সমতায় ফেরার চেষ্টা করে বাংলাদেশ। ঋতুপর্ণার উপর নির্ভর করলেও তিনি এই অর্ধে তেমন কোনো আক্রমণ করতে পারেননি। উল্টো ৮২ মিনিটে ডিফেন্ডার আফিদা খন্দকার বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ব্যর্থ হওয়ায় আরেকটি গোল হজম করে বাংলাদেশ।
এই গোলের সাথেই বাংলাদেশের হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের আশায় সলিল সমাধি ঘটে। বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় রেফারি বাঁশি বাজাতেই উল্লাসে মাতে ভারত।
বাংলাদেশ গত দুই সাফ আসরে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এবার শুরু থেকেই ম্রিয়মাণ। গ্রুপ পর্যায়ে ভারতের বিপক্ষে ৩–০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। ফাইনালেও ৩ গোল হজম করেছে। বিপরীতে ঋতুপর্ণা এক গোল পরিশোধ করেছেন। বৃটিশ কোচ পিটার বাটলারের দলে অন্যতম সমস্যা গোলকিপিং ও ডিফেন্স। ফাইনালে সেটিই ভুগিয়েছে বাংলাদেশকে।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৬ সালের ফাইনালেও স্বাগতিক ভারতের কাছে হেরেছিল বাংলাদেশ।
এসএ