দেশের প্রধান নদনদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গাইবান্ধায় তিস্তা ও সিলেটে কুশিয়ারার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সেই সঙ্গে আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ও উজানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় নতুন করে বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে নিয়মিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
পাউবোর তথ্যমতে, বর্তমানে গাইবান্ধার তারাপুর স্টেশনে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপরে (২৪.৭৩ মিটার) এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ স্টেশনে কুশিয়ারার পানি বিপৎসীমার ১১ সেন্টিমিটার ওপরে (৯.৫৬ মিটার) প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী তিন দিনে ব্রহ্মপুত্র–যমুনা এবং গঙ্গা–পদ্মা অববাহিকার পানি আরও বেড়ে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলার কিছু স্থানে সতর্কসীমা অতিক্রম করতে পারে।
এছাড়া আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার কিছু স্থানে নদীগুলো সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
আবহাওয়া সংস্থাসমূহের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং সংলগ্ন উজানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। পরবর্তী দুই দিন দেশের অভ্যন্তরে সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগেও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এর মধ্যেও আগামী ২৪ ঘণ্টায় গাইবান্ধায় তিস্তাসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির আভাস দেওয়া হয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের পর্যবেক্ষণাধীন ১২৭টি স্টেশনের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৪টি স্টেশনের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ৪৯টি স্টেশনের পানি হ্রাস পেয়েছে। গত এক দিনে দেশের ঢাকা, বরিশাল, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগের পাশাপাশি উজানে ভারতের ত্রিপুরা ও মিজোরামেও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। এদিকে পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ–পূর্বাঞ্চলের গোমতী, মুহুরী, ফেনী নদীসহ নোয়াখালী ও রামজীবন খালের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তা আগামী দুই দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।