বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, শুধু আওয়ামী লীগ কেন তার চেয়ে বড় দল হলেও বিএনপি নির্বাচনে যেতে চায় তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ফ্রেশ ও ফেয়ার নির্বাচনে।
শুক্রবার (১৯ মে) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি আয়োজিত জনসমাবেশে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের উদ্দ্যেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, খেলা শুরু হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের খেলা শেষ করে তত্বাবধায়ক সরকারে অধীনে নির্বাচনে বিএনপি।
বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে মামলা, পুলিশি হয়রানি, দ্রব্যমূলের উর্ধগতি ও বিদ্যুতের লোড শেডিংসহ ১০ দফা দাবিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি আয়োজিত জনসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের নানা সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই সরকারের লুটপাটে দেশের জনগণ অস্থির, তাই লুটেরা সরকারকে বিদায় করতে হবে। তিনি বলেন, মানুষের পেটে ক্ষুধা রেখে দুটো ব্রিজ করলেই উন্নয়ন হয় না। মানুষের পেটে ভাত নাই, আপনারা উন্নয়নের গল্প শোনান। আগে পেটের ভাত তারপর উন্নয়ন। যে উন্নয়নের চেয়ে বেশি নিজের পকেটের উন্নয়ন হয় সে উন্নয়ন আমারে প্রয়োজন নেই। আমাদের পাশের দেশগুলোতে ব্রিজ করতে লাগে নয় হাজার ডলার, আর আমার দেশে লাগে ত্রিশ হাজার ডলার। এটা কী মগের মুল্লুক নাকি। সরকারি কর্মকর্তারা একে অপরের বিরুদ্ধে লেগে আছে। এ বলে তুই বেশি খেয়েছিস ও বলে তুই বেশি খেয়েছিস। পানির দাম, গ্যাস, বি্যুতের দাম বাড়াচ্ছে। ওরা বলে তেলের দাম বাড়াবো না আন্তর্জাতিক বাজারের দামে ছেড়ে দিবো। এতদিনে কেন। আমার নেত্রী ভর্তুকি দেয়নি? তখন কী দাম বেড়েছিল? বাড়েনি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, এখন আওয়ামী লীগের জামায়াতে ইসলামের নাম শুনলে গায়ে জ্বালা ধরে। এখন নাকি সেই জামাতের সাথে তারা আপস করতে চাইছে বলে শুনেছি। অথচ তারা সেই জামাতের সাথে কাধে কাধ মিলিয়ে তত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন–সংগ্রাম করে ক্ষমতায় এসেছিলেন। ক্ষমতায় টিকে থাকতে সরকার অগণিত গুম-খুন করছে।
সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনিয়মনের অভিযোগ তুলে মির্জা আব্বাস বলেন, এখন পালানোর জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন মিটিং করছে। তারা কোথায় কোথায় কিভাবে পালাবেন সে চিন্তা করছেন। তারা যদি আপসে যায় তাহলে যেতে পারে, জোর করলে পালাতে পারবেন না।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহবায়ক সাখাওয়াত হোসেন খানের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী মনির হোসেন, গিয়াস উদ্দিন। মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুর আল ইউসুফ টিপুসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
আল/দীপ্ত সংবাদ