শুক্রবার, ৩রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার, ৩রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিচ্ছেন যেসব বিশ্বনেতারা

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক

ইরানের সর্বোচ্চ আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ যাত্রার অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। তাকে শেষ বিদায় জানাতে বড় আকারের শোকযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে।

এ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বিশ্বের প্রায় ১০০টি দেশ প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পাঠাচ্ছে।

তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে সমর্থন দেওয়া ইউরোপের দেশগুলোকে এ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, ইরান ও মার্কিনইসরায়েল যুদ্ধের প্রথম দিনেই নিজের বাসভবনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ৮৬ বছর বয়সে নিহত হন খামেনি।

দাফন অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রাহমন, আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান এবং জর্জিয়ার প্রেসিডেন্ট মিখাইল কাভেলাশভিলি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন বলে জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট সেভদেত ইলমাজ, ভারতের প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্গারিটা, বিহারের গভর্নর সৈয়দ আতা হাসনাইন, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ ও কাশ্মীরি নেতা মেহবুবা মুফতিও প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে থাকবেন।

চীনের জাতীয় গণকংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান হে ওয়েই এবং রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভও অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকী ইতোমধ্যে তেহরানে পৌঁছেছেন। উপপ্রধানমন্ত্রী আব্দুল গনি বারাদারেরও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়া থাকবেন ১১ দলীয় জোটের প্রতিনিধিদল।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির দাফন অনুষ্টান উপলক্ষে ছয় দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার ও রবিবার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় খামেনি ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যের কফিন জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে।

সোমবার ও মঙ্গলবার শেষযাত্রা ইরানের ধর্মীয় নগরী কোমের দিকে যাবে।

বুধবার ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় শোকযাত্রা ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে। শহর দুটি বিশ্বের কোটি কোটি শিয়া মুসলমানের কাছে অত্যন্ত পবিত্র।

পরবর্তীতে মরদেহ আবার ইরানে ফিরিয়ে আনা হবে এবং দেশটির উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে অবস্থিত ইমাম রেজার পবিত্র মাজারে চূড়ান্ত দাফন কার্য সম্পন্ন হবে। খামেনির জন্মশহর ইরানের মাশহাদ।

এদিকে ২৮ ফেব্রুয়ারির যুক্তরাষ্ট্রইসরায়েলি হামলায় নিহত খামেনির পরিবারের আরো কয়েকজন সদস্যকেও তার সঙ্গে দাফন করা হবে। তাদের মধ্যে রয়েছেন তার মেয়ে, পুত্রবধূ, জামাতা এবং তিন বছর বয়সী নাতনি।

পর্যবেক্ষকদের মতে, ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির দাফন অনুষ্ঠান আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ জনসমাগমে পরিণত হতে পারে। এর আকার ও অংশগ্রহণ ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির শেষকৃত্যকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। সে সময় প্রায় ১ কোটি মানুষ শোকযাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন।

নিরাপত্তাজনিত কারণে খামেনির ছেলে ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি শেষকৃত্যে অংশ নেবেন না বলে বৃহস্পতিবার তার ভারতের প্রতিনিধি জানিয়েছেন। ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হত্যার হুমকির পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিকে খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যের প্রস্তুতির মধ্যে ইরানের এক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে নতুন হামলার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন।

খাতাম আলআম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের কমান্ডার আলি আবদোল্লাহি এক বিবৃতিতে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হামলা বা আগ্রাসন চালানো হলে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী কঠোর জবাব দেবে। তিনি বিশেষভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ভুল পদক্ষেপ না নেওয়ার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More