কুয়াকাটা সৈকত সংলগ্ন বনাঞ্চলের গাছ প্রকাশ্যে কেটে নিচ্ছে বনদস্যুরা

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ্যে কেটে নেয়া হচ্ছে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছ।

আগামী ২৮ জুলাই বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবস। প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ, উদ্ভিদ ও প্রাণীজগতের সুরক্ষা এবং জীববৈচিত্র্য হ্রাসের মতো পরিবেশগত হুমকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে দিনটি পালন করা হয়।

বাংলাদেশের প্রাণপ্রকৃতি নিয়ে দীপ্ত সংবাদের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের এই পর্বে থাকছে কুয়াকাটা সংলগ্ন বনাঞ্চল নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন।

প্রকাশ্যে কেটে নেয়া হচ্ছে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছ। কুয়াকাটা সৈকতের চর গঙ্গামতী এলাকার ঝাউ বাগান, যেখান থেকে শত শত ঝাউ গাছ কেটে নিয়েছে বনদস্যুরা। শুধু ঝাউ গাছই নয়, দীর্ঘ ২২ কিলোমিটার সৈকতের লেম্বুরবন, গঙ্গামতি লেক ও কাউয়ারচরসহ অন্তত ৮টি স্থান থেকে সুন্দরী, কেওড়া, ছইলা, রেন্ট্রি ও কড়াই গাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে উজাড় করা হচ্ছে।

বনাঞ্চল ধ্বংস হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন পর্যটক ও স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, “এভাবে যদি (গাছ) কেটে নেয়, এটার বিরুদ্ধে আমরা মনে করি যে সরকারের কঠিন পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।”

এক পর্যটক বলেন, প্রতিনিয়তই যেভাবে বনাঞ্চল ধ্বংস হচ্ছে, এভাবে ধ্বংস হলে একসময় দেখা যাবে পর্যটন শিল্প ধ্বংসের মুখে পড়ে যাবে। গাছ কেটে যেভাবে ফেলে রাখছে আর গাছগুলি যেভাবে নিয়ে যেতেছে, তাতে সাগরের সৌন্দর্য হারিয়ে যাচ্ছে।

উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের আহবায়ক (কুয়াকাটা) কেএম বাচ্চু বলেন, দিনে রাতে প্রকাশ্যে এই বনগুলো উজাড় করা হচ্ছে। একটি চক্র বা একটি মহল এটি করছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং যারা বন বিভাগের দায়িত্বে রয়েছে তাদের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং এই চক্রটি কারা তা চিহ্নিত করা।

বন রক্ষার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়ে বন কর্মকর্তা (মহিপুর) কেএম মনিরুজ্জামান।

তিনি বলেন, “আমাদের আসলে লোকবল খুব কম। ওখানে মাত্র চারজন স্টাফ আছে। অফিস পাহারার জন্য সবসময় অন্তত একজন লোক থাকা দরকার। মাত্র একদুজন লোক দিয়ে এত বিস্তীর্ণ এলাকার বন রক্ষা করা আসলে আমার পক্ষে সম্ভব না।

 

 

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতকে আকর্ষণীয় করে তুলতে নতুন বনায়ন এবং বনদস্যুদের আইনের আওতায় আনতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিবে—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

 

মাসউদ/এসএ

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More