কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে নিহত স্কুলশিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার আগে কান্নায় ভেঙে পড়ে বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের বয়স যখন দুই বছর, তখন সে এই এলাকায় এসেছে। আমার স্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। অপ্রতিম আপনাদের কাছেই বড় হয়েছে। আপনাদের আদর–স্নেহ পেয়েছে, আপনাদের বাসায় খেয়েছে। তাই আপনাদের কাছেই অপ্রতিমকে সমাহিত করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার একটাই ছেলে। বাবা হিসেবে আজ আমি আপনাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। ওর কোনো আচরণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে মাফ করে দেবেন। ওর জন্য দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন ওকে বেহেশত নসিব করেন।’
জানাজায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মচারী–কর্মকর্তাসহ উপস্থিত হাজারো জনতা অংশ নেয়। প্রথম জানাজা শেষে অপ্রতিমের মরদেহ দ্বিতীয় জানাজার জন্য কুমিল্লার গন্ধমতী এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দীন বলেন, ‘অপ্রতীম আমাদেরই সন্তান, এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই সদস্য। আমরা চাই, আমাদের অপ্রতিম হত্যার সুষ্ঠু বিচার হোক। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে বিজয় ২৪ হল পর্যন্ত রাস্তায় সিসিটিভি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
প্রসঙ্গত, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী জঙ্গল লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকা থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এর আগে, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানাধীন ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে বের হয়ে অপ্রতীম আর ফেরিনি বলে জানান তার মা ড. নাহিদা বেগম।
এ ঘটনায় অপ্রতীমের বাবা কেএম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
উল্লেখ্য, অপ্রতীম স্থানীয় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান।
এসএ