আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে কোনো ধরনের শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
তিনি বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশন মনে করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে এ পর্যন্ত গৃহীত সব কার্যক্রম সঠিক পথেই রয়েছে। নির্বাচন কমিশন মনে করে কোনো আশঙ্কাই টিকবে না। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশ, জাতি এবং বিশ্ব দেখবে যে, বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।’
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ইসি আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘আমরা মনে করি শতভাগ আস্থার সাথে জনগণ এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। রাজনৈতিক দলগুলো অংশ নিচ্ছে এবং একটা উৎসবমুখর পরিবেশ মাঠে ঘাটে নির্বাচনে প্রচারণা চলছে। এগুলো তো আস্থারই বহিঃপ্রকাশ।
নির্বাচনী পরিবেশ সম্পর্কে ইসি আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘অতীতের অনেক নির্বাচনের চেয়ে এবারের মাঠের পরিবেশ অত্যন্ত চমৎকার। রাজনৈতিক দলগুলো এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা উৎসবমুখর পরিবেশে প্রচার–প্রচারণা চালাচ্ছেন। এটা নির্বাচন কমিশনের ওপর জনগণের আস্থারই বহিঃপ্রকাশ।’
ভোটারদেরকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে শতভাগ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশ, আনসার এবং বিএনসিসি সদস্যরা মাঠে থাকবেন। ভোটাররা নিরাপদে কেন্দ্রে যাবেন, ভোট দেবেন এবং নিরাপদে তারা বাড়ি ফিরবেন, এই পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে।’
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রার্থীরা এবং দলীয় প্রধানরা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে অঙ্গীকারনামা দিয়েছেন যে তারা আচরণবিধি মেনে চলবেন। এর ফলে এবার নির্বাচনী মাঠে শৃঙ্খলা অনেক ভালো। তবে যেখানেই অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেই রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচনী তদন্ত কমিটি (ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটি) তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে ৫০–৬০টি মামলা হচ্ছে, কাউকে জরিমানা আবার কাউকে শোকজ করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, প্রতিনিয়তই রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আমাদের সাথে সাক্ষাৎ করে উনাদের পরামর্শ, পর্যবেক্ষণ আমাদেরকে দিচ্ছেন। সে অনুযায়ী আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছি। সাংবাদিক ভাইদের মাধ্যমেও বিষয়গুলো আসছে। তাৎক্ষণিকভাবে আমরা রিটার্নিং অফিসারদের নজরে নিয়ে আসছি এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় যারা নিয়োজিত রয়েছেন তাদেরকে এগুলোর নিবারণসহ প্রতিরোধ এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা তড়িৎ ব্যবস্থা নিচ্ছি।
গণভোট ও নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার সময়সীমা নিয়ে তিনি বলেন, ‘যেহেতু সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট অনুষ্ঠিত হবে, তাই ফলাফল প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা সময় লাগতে পারে। তবে আমাদের লজিস্টিকস ও জনবল সেভাবেই প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আশা করছি ভোটের দিন মধ্যরাতে বা শেষ রাতের মধ্যেই অধিকাংশ ফলাফল বেসরকারিভাবে ঘোষণা করা সম্ভব হবে।’
গণভোটে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রচারণার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকারী রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা কোনো পক্ষের হয়ে কাজ করবেন না। তারা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকবেন। তবে তারা ভোটারদের ভোটদানে উদ্বুদ্ধ করবেন।’