রাজধানীর মিরপুরে বাসা থেকে স্ত্রী ইকরার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের মামলায় ছোটপর্দার অভিনেতা নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া ওরফে যাহের আলভীর জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৪ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন এ আদেশ দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী প্রসিকিউটর হারুন অর রশীদ এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন যাহের আলভী। তার পক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া জামিন চেয়ে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে আমরা বিরোধিতা করি। বাদীপক্ষের আইনজীবী ঢাকা আইনজীবী সমিতির সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদও জামিনের তীব্র বিরোধিতা করেন।উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।’
শুনানিকালে ইকরার বাবা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাকে কাঁদতে দেখা যায়।
গত ৪ জুন ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালতে যাহের আলভীর মা নাসরিন সুলতানা আত্মসমর্পণ করে জামিন পান।
জামিন আবেদনে বলা হয়, ‘যাহের আলভী বিদেশে পলাতক থাকা অবস্থায় তার আইনজীবী উচ্চ আদালতে যান যেন দেশে ফিরলে তাকে যেন গ্রেপ্তার বা হেনস্তা না করা হয়। এই আদেশের পর ৫ জুন দেশে ফেরেন যাহের আলভী। এ আসামি ঘটনার সাথে কোনোভাবে জড়িত না। ভিকটিম তার স্ত্রী। তার স্ত্রী আত্মহত্যা করে করে মারা গেছে। তাদের শিশু পুত্র সন্তান রয়েছে। সহ–আসামিকে (আলভীর মা) জামিন দেওয়া হয়েছে। আসামি পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি। বিনা শর্তে বা যে কোনো শর্তে জামিন প্রার্থনা করছি।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পল্লবীর ডিওএইচএসের বাসায় বেলা পৌঁনে ১২টার দিকে বাসার সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ইকরাকে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা। পরে বাসার মালিকসহ স্বজনরা মিলে তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ খবর পেয়ে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট করাসহ বাসা থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।
ইকরার আত্মহত্যার ঘটনায় ওইদিন রাতেই মামলা করেন বাবা কবির হায়াত খান। দীর্ঘদিনের ‘পারিবারিক কলহ ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের কারণেই’ ইকরা আত্মহত্যা করতে ‘বাধ্য হয়েছেন’ বলে মামলায় অভিযোগ করেন তিনি।