নাটোরের নলডাঙ্গায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী রোকেয়া বেগমকে শ্বাসরোধ করে হত্যার দায়ে স্বামী ওসমান গনি’র ফাঁসি ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার( ১০ অক্টোবর) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এই রায় ঘোষণা করেন। দন্ডপ্রাপ্ত ওসমান গনি নলডাঙ্গা উপজেলার বাসুদেবপুর গ্রামের মৃত ইসমাইল মৃধার ছেলে।
আদালতের স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান জানান, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবি করে স্ত্রীর ওপর নির্যাতন চালায় স্বামী ওসমান গনি। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বেশ কয়েকবার অল্প অল্প করে রোকেয়া তার ভাইয়ের কাছ থেকে টাকা এনে দেয় স্বামীকে। কিন্তু তার যৌতুকের চাহিদার মাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং যৌতুকের টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন রোকেয়ার ভাই। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকতো। এরই এক পর্যায়ে ২০১৩ সালের ২১ আগস্ট রাতে স্ত্রী রোকেয়া বেগমের গলায় শাঁড়ি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে স্বামী ওসমান গনি।
এরপর এলাকাবাসীর কাছ থেকে রোকেয়া আত্মহত্যা করেছে বলে খবর পেয়ে রোকেয়ার ভাই সেখানে গিয়ে রোকেয়ার মরদেহ দেখতে পায়। ঘটনার পরের দিন নিহত রোকেয়ার বড় ভাই একাব্বর হোসেন বাদী হয়ে নলডাঙ্গা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর পুলিশ ওসমান গনিকে গ্রেপ্তার করে এবং তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্র দায়ের করেন আদালত। দীর্ঘ ১০ বছর মামলার স্বাক্ষ্য প্রমান গ্রহণ শেষে আসামীর উপস্থিতিতে আদালতের বিচারক এই রায় ঘোষণা করেন। মামলার রায়ে বাদী পক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করে দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানান।
সাহেদুল আলম/পূর্ণিমা/দীপ্ত নিউজ