বাংলাদেশ থেকে উড়ে যাওয়া একটি বিশাল আকৃতির বেলুন ভারতের আসাম রাজ্যের কাছাড় জেলায় পড়ার পর সেখানে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) জেলার বরখোলা এলাকার একটি কৃষিজমি থেকে পুলিশ বেলুনটি উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, বেলুনটি সিলেটের একটি বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠান থেকে ওড়ানো হয়েছিল।
দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে উড়ে যাওয়া বিশাল আকারের একটি গ্যাস বেলুন রবিবার আসামের কাছাড় জেলায় উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
কাছার জেলা পুলিশ বলেছে, বেলুনটিতে বাংলাদেশের সিলেট জেলার ঘিলাছড়া দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের নাম লেখা ছিল। বেলুনটি কাছাড়ের বরখোলা এলাকায় পাওয়া যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেছেন, অস্বাভাবিকভাবে বড় ওই বেলুনটি একটি কৃষিজমিতে নেমে আসে। এতে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি সবার নজরে আসে। বেলুনটি দেখে আতঙ্কিত হয়ে গ্রামবাসীরা প্রথমে ভিলেজ ডিফেন্স পার্টিকে (ভিডিপি) খবর দেন। পরে ভিডিপির সদস্যরা পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে কাছার জেলা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। জেলার জ্যেষ্ঠ পুলিশ সুপার পার্থ প্রতীম দাসও সেখানে যান। পুলিশের পৌঁছানোর আগেই সেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হন।
বিদ্যালয়ের নামের পাশাপাশি বেলুনটিতে তিন ব্যক্তির ছবি এবং বাংলায় কিছু লেখা ছিল।
কীভাবে বেলুনটি আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করে কাছার জেলায় পৌঁছেছে এবং এর সঙ্গে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট উদ্বেগজনক কোনও বিষয় রয়েছে কি না; তা জানতে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একই দিন (রবিবার) সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ঘিলাছড়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রাক্তন শিক্ষক–শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়। সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আনোয়ার চৌধুরীর উপস্থিতিতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বেলুন ওড়ানো হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেই বেলুনটিই বাতাসের তোড়ে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের আসামে গিয়ে পড়েছে।